ঢাকা ০৫:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
৫০ লাখ নয়, বৈধ খাত দেখাতে পারলে ৫ কোটি টাকা বহনেও বাধা নেই: ইসি জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে ইসলামী আন্দোলন গাইবান্ধায় ভোটের সব প্রস্তুতি শেষ, জমে উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ব্যালট পাঠানো শুরু, বৃহস্পতিবার ভোটে নির্ধারিত হবে ভাগ্য স্বতন্ত্র প্রার্থীর নাম ব্যবহার করে সাড়ে ১০ লাখ টাকা, মাইক্রোবাস জব্দ কেউ কেউ অপতথ্য ছড়াচ্ছে মন্তব্য জামায়াত আমিরের অর্ধকোটি টাকাসহ আটক ঠাকুরগাঁও জামায়াত আমির, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ নিয়ে জাতিসংঘের বার্তা ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ: প্রধানমন্ত্রী পদে শাবানা মাহমুদ? ভোট দিতে পারছেন না শাকিব-শুভ, কাল কে কোথায় ভোট দেবেন?

ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ: প্রধানমন্ত্রী পদে শাবানা মাহমুদ?

বাংলা ভিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 7

Screenshot

লন্ডন: যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব ঘিরে চাপ বাড়ছে। এপস্টিন–সম্পর্কিত নথি প্রকাশ ও পিটার ম্যান্ডেলসনকে ঘিরে বিতর্কের পর লেবার পার্টির ভেতরে সম্ভাব্য নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবরে উঠে এসেছে। 

এই প্রেক্ষাপটে দলীয় উচ্চপর্যায়ে যে নামটি দ্রুত সামনে আসছে, তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। নেতৃত্বের লড়াই শুরু হলে তিনি প্রভাবশালী দাবিদার হতে পারেন বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ মনে করছে। তবে এ মুহূর্তে নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা প্রক্রিয়া শুরু হয়নি—আলোচনাগুলো মূলত জল্পনা ও দলীয় অভ্যন্তরীণ হিসাব–নিকাশের পর্যায়ে। 

কেন নতুন করে টালমাটাল রাজনীতি

সাম্প্রতিক সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন লেবারপন্থী রাজনীতিক পিটার ম্যান্ডেলসন। তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার শুরু থেকেই সমালোচনার মুখে পড়ে। এরপর জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন তথ্য সামনে আসায় রাজনৈতিক চাপ তীব্র হয়। 

এ ঘটনার রেশ ধরে স্টারমারের চিফ অব স্টাফ মর্গান ম্যাকসুইনি পদত্যাগ করেন বলেও খবর এসেছে।  একই সময়ে সরকারের ভেতরে নথি, যোগাযোগ ও যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে; মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত বার্তা প্রকাশ না করতে পর্যন্ত সতর্ক করা হয়েছে বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। 

কে এই শাবানা মাহমুদ

শাবানা মাহমুদ বর্তমানে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Home Secretary)। তিনি ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে এই দায়িত্ব নেন বলে যুক্তরাজ্য সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে।  এর আগে তিনি বিচারমন্ত্রী ও লর্ড চ্যান্সেলরের দায়িত্বেও ছিলেন। 

বার্মিংহামে জন্ম নেওয়া শাবানা পেশায় ব্যারিস্টার। লেবার রাজনীতিতে তিনি দক্ষ সংগঠক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ নেতা হিসেবে পরিচিত, এবং স্টারমারের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের একজন হিসেবে বিবেচিত হন—যার কারণে সংকটে নেতৃত্বের বিকল্প নামগুলোর তালিকায় তাঁর নাম বারবার উঠছে। 

“প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী” হওয়ার সমীকরণ

শাবানা মাহমুদ যদি লেবার নেতৃত্ব জিতে প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে তিনি যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হবেন—এটাই আলোচনার সবচেয়ে বড় শিরোনাম। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথটি দলীয় নেতৃত্ব + সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার মতো কঠিন ধাপ পেরিয়ে আসে। ফলে এটি এখনই “নিশ্চিত ভবিষ্যৎ” নয়; বরং চলমান রাজনৈতিক সংকট কতদূর যায়, স্টারমার কতটা টিকে থাকেন এবং দলীয় ভেতরের সমর্থন কার দিকে বাঁকে—সেই সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে সবকিছু। 

আলোচনায় অন্য যাঁরা

স্টারমারের ওপর চাপ বাড়ার পর লেবারের ভেতরে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নামও ঘুরছে—স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার, গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামসহ অনেকে। সাম্প্রতিক ঘটনায় স্ট্রিটিংকে ঘিরে আলাদা আলোচনাও দেখা গেছে। 

এখন মূল প্রশ্ন

স্টারমার–ম্যান্ডেলসন–এপস্টিন বিতর্কের ধাক্কা যদি দীর্ঘ হয়, দলীয় সমর্থন যদি আরও নড়বড়ে হয়, তাহলে লেবারের ভেতরে নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাসের দরজা খুলতে পারে। সে ক্ষেত্রে শাবানা মাহমুদ কি কেবল “আলোচনার নাম” থাকবেন, নাকি সত্যিই নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যাবেন—এটা নির্ধারিত হবে আগামী কয়েক সপ্তাহের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে।

শেয়ার করুন

ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ: প্রধানমন্ত্রী পদে শাবানা মাহমুদ?

আপডেট: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

লন্ডন: যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব ঘিরে চাপ বাড়ছে। এপস্টিন–সম্পর্কিত নথি প্রকাশ ও পিটার ম্যান্ডেলসনকে ঘিরে বিতর্কের পর লেবার পার্টির ভেতরে সম্ভাব্য নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবরে উঠে এসেছে। 

এই প্রেক্ষাপটে দলীয় উচ্চপর্যায়ে যে নামটি দ্রুত সামনে আসছে, তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। নেতৃত্বের লড়াই শুরু হলে তিনি প্রভাবশালী দাবিদার হতে পারেন বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ মনে করছে। তবে এ মুহূর্তে নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা প্রক্রিয়া শুরু হয়নি—আলোচনাগুলো মূলত জল্পনা ও দলীয় অভ্যন্তরীণ হিসাব–নিকাশের পর্যায়ে। 

কেন নতুন করে টালমাটাল রাজনীতি

সাম্প্রতিক সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন লেবারপন্থী রাজনীতিক পিটার ম্যান্ডেলসন। তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার শুরু থেকেই সমালোচনার মুখে পড়ে। এরপর জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন তথ্য সামনে আসায় রাজনৈতিক চাপ তীব্র হয়। 

এ ঘটনার রেশ ধরে স্টারমারের চিফ অব স্টাফ মর্গান ম্যাকসুইনি পদত্যাগ করেন বলেও খবর এসেছে।  একই সময়ে সরকারের ভেতরে নথি, যোগাযোগ ও যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে; মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত বার্তা প্রকাশ না করতে পর্যন্ত সতর্ক করা হয়েছে বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। 

কে এই শাবানা মাহমুদ

শাবানা মাহমুদ বর্তমানে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Home Secretary)। তিনি ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে এই দায়িত্ব নেন বলে যুক্তরাজ্য সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে।  এর আগে তিনি বিচারমন্ত্রী ও লর্ড চ্যান্সেলরের দায়িত্বেও ছিলেন। 

বার্মিংহামে জন্ম নেওয়া শাবানা পেশায় ব্যারিস্টার। লেবার রাজনীতিতে তিনি দক্ষ সংগঠক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ নেতা হিসেবে পরিচিত, এবং স্টারমারের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের একজন হিসেবে বিবেচিত হন—যার কারণে সংকটে নেতৃত্বের বিকল্প নামগুলোর তালিকায় তাঁর নাম বারবার উঠছে। 

“প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী” হওয়ার সমীকরণ

শাবানা মাহমুদ যদি লেবার নেতৃত্ব জিতে প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে তিনি যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হবেন—এটাই আলোচনার সবচেয়ে বড় শিরোনাম। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথটি দলীয় নেতৃত্ব + সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার মতো কঠিন ধাপ পেরিয়ে আসে। ফলে এটি এখনই “নিশ্চিত ভবিষ্যৎ” নয়; বরং চলমান রাজনৈতিক সংকট কতদূর যায়, স্টারমার কতটা টিকে থাকেন এবং দলীয় ভেতরের সমর্থন কার দিকে বাঁকে—সেই সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে সবকিছু। 

আলোচনায় অন্য যাঁরা

স্টারমারের ওপর চাপ বাড়ার পর লেবারের ভেতরে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নামও ঘুরছে—স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার, গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামসহ অনেকে। সাম্প্রতিক ঘটনায় স্ট্রিটিংকে ঘিরে আলাদা আলোচনাও দেখা গেছে। 

এখন মূল প্রশ্ন

স্টারমার–ম্যান্ডেলসন–এপস্টিন বিতর্কের ধাক্কা যদি দীর্ঘ হয়, দলীয় সমর্থন যদি আরও নড়বড়ে হয়, তাহলে লেবারের ভেতরে নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাসের দরজা খুলতে পারে। সে ক্ষেত্রে শাবানা মাহমুদ কি কেবল “আলোচনার নাম” থাকবেন, নাকি সত্যিই নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যাবেন—এটা নির্ধারিত হবে আগামী কয়েক সপ্তাহের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে।