ঢাকা    সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইরানে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে নেতানিয়াহু ও সেনাপ্রধানের বিরোধ

ইরানে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে নেতানিয়াহু ও সেনাপ্রধানের বিরোধ
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আইয়াল জামিরের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল ১২। সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশের বিষয়ে এই বিরোধের খবর এমন সময়ে সামনে এল, যখন মঙ্গলবার ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে চ্যানেল ১২ জানায়, নেতানিয়াহুর দেওয়া সামরিক অভিযানের নির্দেশ বাস্তবায়নে রাজি ছিলেন না জামির। এ বিষয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি, প্রস্তাবিত অভিযানের আইনি অনুমোদন রয়েছে—এমন একটি লিখিত নথিতে নেতানিয়াহুর স্বাক্ষর চেয়েছিলেন সেনাপ্রধান।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঠিক কী ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা চ্যানেল ১২ স্পষ্ট করেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ইরানে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে এই বিরোধ তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

চ্যানেল ১২-এর বরাতে এক সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত অভিযানটি ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সংবেদনশীল এই সময়ে এমন পরিস্থিতি ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজনের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ইরান ইস্যুকে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

তবে টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এর আগে অন্য একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়ে কাজ করতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো এবং তাঁরা একসঙ্গে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে সফল হয়েছেন।

পোস্টে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে পরিচালিত ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তাঁর ভাষ্য, দেশটির সামরিক বাহিনী ও অর্থনীতিও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

ইরানের ওপর নৌ অবরোধের কারণে দেশটি তেল পাচ্ছে না বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্বের দুটি স্তরই হারিয়ে গেছে। ইসরায়েলের জনগণের উদ্দেশে তিনি নেতানিয়াহুকে দক্ষ ও সাহসী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ইরান ইস্যুতে শুরু করা কাজ শেষ করতে তাঁকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে, নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে রোববার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি ছবি প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। ছবিতে তেল আবিবে পারমাণবিক বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখানো হয়। ছবিটি প্রকাশ করে তিনি সতর্ক করেন, তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকে ভোট দিলে ইসরায়েলিরা ‘দ্বিতীয় হলোকাস্টের’ ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

পোস্টে ডানপন্থী কর্মী ইউভাল ব্লুমবার্গের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, ইসরায়েল সরাসরি অস্তিত্বের হুমকির মুখে রয়েছে এবং ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যেতে পারে। সেখানে আরও দাবি করা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শেষ করতে ট্রাম্পের হাতে আরও দুই বছর সময় রয়েছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কে আসবেন, তা নিশ্চিত নয়। তাই ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে সক্ষম একজন প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন।

২৩ অক্টোবর প্রকাশিত নির্বাচনের সর্বশেষ পূর্বাভাসেও দেশটির রাজনৈতিক অচলাবস্থার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন বা বিরোধী—কোনো জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র : এএনআই নিউজ

ট্যাগ : ইরান বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েল

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


ইরানে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে নেতানিয়াহু ও সেনাপ্রধানের বিরোধ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আইয়াল জামিরের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল ১২। সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশের বিষয়ে এই বিরোধের খবর এমন সময়ে সামনে এল, যখন মঙ্গলবার ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে চ্যানেল ১২ জানায়, নেতানিয়াহুর দেওয়া সামরিক অভিযানের নির্দেশ বাস্তবায়নে রাজি ছিলেন না জামির। এ বিষয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি, প্রস্তাবিত অভিযানের আইনি অনুমোদন রয়েছে—এমন একটি লিখিত নথিতে নেতানিয়াহুর স্বাক্ষর চেয়েছিলেন সেনাপ্রধান।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঠিক কী ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা চ্যানেল ১২ স্পষ্ট করেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ইরানে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে এই বিরোধ তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

চ্যানেল ১২-এর বরাতে এক সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত অভিযানটি ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সংবেদনশীল এই সময়ে এমন পরিস্থিতি ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজনের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ইরান ইস্যুকে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

তবে টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এর আগে অন্য একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়ে কাজ করতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো এবং তাঁরা একসঙ্গে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে সফল হয়েছেন।

পোস্টে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে পরিচালিত ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তাঁর ভাষ্য, দেশটির সামরিক বাহিনী ও অর্থনীতিও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

ইরানের ওপর নৌ অবরোধের কারণে দেশটি তেল পাচ্ছে না বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্বের দুটি স্তরই হারিয়ে গেছে। ইসরায়েলের জনগণের উদ্দেশে তিনি নেতানিয়াহুকে দক্ষ ও সাহসী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ইরান ইস্যুতে শুরু করা কাজ শেষ করতে তাঁকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে, নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে রোববার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি ছবি প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। ছবিতে তেল আবিবে পারমাণবিক বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখানো হয়। ছবিটি প্রকাশ করে তিনি সতর্ক করেন, তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকে ভোট দিলে ইসরায়েলিরা ‘দ্বিতীয় হলোকাস্টের’ ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

পোস্টে ডানপন্থী কর্মী ইউভাল ব্লুমবার্গের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, ইসরায়েল সরাসরি অস্তিত্বের হুমকির মুখে রয়েছে এবং ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যেতে পারে। সেখানে আরও দাবি করা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শেষ করতে ট্রাম্পের হাতে আরও দুই বছর সময় রয়েছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কে আসবেন, তা নিশ্চিত নয়। তাই ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে সক্ষম একজন প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন।

২৩ অক্টোবর প্রকাশিত নির্বাচনের সর্বশেষ পূর্বাভাসেও দেশটির রাজনৈতিক অচলাবস্থার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন বা বিরোধী—কোনো জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র : এএনআই নিউজ


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ