ঢাকা    রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

'বার্সেলোনা আমার জীবনের ক্লাব', স্পেনে ফিরে আবেগঘন মেসি

'বার্সেলোনা আমার জীবনের ক্লাব', স্পেনে ফিরে আবেগঘন মেসি
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

ফুটবল ক্যারিয়ারে অসংখ্য সাফল্য আর ব্যক্তিগত পুরস্কার অর্জন করলেও লিওনেল মেসির হৃদয়ে বার্সেলোনার জায়গা এখনো অটুট। স্পেনে মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্টস’ গ্রহণের সময় সেই পুরোনো ক্লাবের প্রতি ভালোবাসার কথা আবারও জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। একই সঙ্গে স্মরণ করেছেন প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসিকেও।

স্পেনের ওভিয়েদো শহরে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলার। এর আগে বৃহস্পতিবার স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জুকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে পৌঁছান তিনি। শহরটিতে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ভক্তরা।

পুরস্কার গ্রহণের আগে ওভিয়েদোর হোটেল দে লা রেকনকিস্তায় স্প্যানিশ বার্তা সংস্থা ইএফইকে সাক্ষাৎকার দেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। সেখানে নিজের দীর্ঘ ফুটবলজীবন, বার্সেলোনার স্মৃতি এবং বাবার সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো নিয়ে কথা বলেন তিনি।

২০০০ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনার যুব একাডেমিতে যোগ দেন মেসি। এরপর সেখান থেকেই শুরু হয় বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা হয়ে ওঠার যাত্রা।

কাতালান ক্লাবটির হয়ে দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় কাটিয়েছেন তিনি। জিতেছেন অসংখ্য দলীয় ও ব্যক্তিগত শিরোপা। তবে ২০২১ সালে ক্লাবের আর্থিক সংকটের কারণে বার্সেলোনার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হয় তাঁকে।

এত বছর পরও ক্লাবটির সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে বিশেষভাবে দেখেন মেসি। তাঁর কাছে বার্সেলোনা শুধু একটি ফুটবল দল নয়, বরং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সাক্ষাৎকারে মেসি স্মরণ করেন সেই সময়ের সতীর্থ ও দলের সাফল্যের দিনগুলো। তিনি জানান, বার্সেলোনায় তাঁদের দল প্রায় সবকিছুই জিতেছিল। তবে শুধু শিরোপা অর্জন নয়, একসঙ্গে অনুশীলন করা, মাঠে খেলা এবং প্রতিদিনের সময় উপভোগ করার অভিজ্ঞতাও ছিল অসাধারণ।

প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কারটি মেসির কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাঁর বাবার কারণে।

গত ৮ আগস্ট মারা যান তাঁর বাবা হোর্হে মেসি। মৃত্যুর আগে ছেলেকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার গ্রহণের জন্য স্পেনে যাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছিলেন তিনি।

মেসি জানান, ব্যস্ত ফুটবল সূচির কারণে স্পেনে এসে পুরস্কার গ্রহণ করা কঠিন হতে পারে বলে তাঁরা জানতেন। তারপরও তাঁর বাবা চেয়েছিলেন, তিনি যেন ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে সম্মাননাটি গ্রহণ করেন।

বাবার সেই আগ্রহের কথা স্মরণ করে মেসি বলেন, পুরস্কারটি নিয়ে হোর্হে মেসি অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন। কারণ, এই স্বীকৃতি শুধু মাঠের পারফরম্যান্স কিংবা ফুটবল ক্যারিয়ারের অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

বাবা বেঁচে থাকলে এই সম্মাননা পাওয়ার মুহূর্তটি বিশেষভাবে উপভোগ করতেন বলেও বিশ্বাস করেন আর্জেন্টাইন তারকা।

ফুটবল মাঠে অসাধারণ সাফল্যের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্টস পেয়েছেন মেসি।

বিশেষ করে তাঁর দাতব্য ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তার বিষয়টি পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেয়েছে।

স্পেনের প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশন গত ৩ জুন মেসিকে এ বছরের ক্রীড়া বিভাগের পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

শুক্রবার ওভিয়েদোর কাম্পোয়ামোর থিয়েটারে আনুষ্ঠানিক আয়োজনে স্পেনের রাজকুমারী লিওনরের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন মেসি।

নতুন এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে আরও একটি সম্মাননা যুক্ত হলো। তবে পুরস্কারের আনন্দের মধ্যেও বার্সেলোনার স্মৃতি এবং বাবার প্রতি ভালোবাসাই বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে মেসির কথায়।

ট্যাগ : লিওনেল মেসি বার্সেলোনা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


'বার্সেলোনা আমার জীবনের ক্লাব', স্পেনে ফিরে আবেগঘন মেসি

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ফুটবল ক্যারিয়ারে অসংখ্য সাফল্য আর ব্যক্তিগত পুরস্কার অর্জন করলেও লিওনেল মেসির হৃদয়ে বার্সেলোনার জায়গা এখনো অটুট। স্পেনে মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্টস’ গ্রহণের সময় সেই পুরোনো ক্লাবের প্রতি ভালোবাসার কথা আবারও জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। একই সঙ্গে স্মরণ করেছেন প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসিকেও।

স্পেনের ওভিয়েদো শহরে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলার। এর আগে বৃহস্পতিবার স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জুকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে পৌঁছান তিনি। শহরটিতে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ভক্তরা।

পুরস্কার গ্রহণের আগে ওভিয়েদোর হোটেল দে লা রেকনকিস্তায় স্প্যানিশ বার্তা সংস্থা ইএফইকে সাক্ষাৎকার দেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। সেখানে নিজের দীর্ঘ ফুটবলজীবন, বার্সেলোনার স্মৃতি এবং বাবার সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো নিয়ে কথা বলেন তিনি।

২০০০ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনার যুব একাডেমিতে যোগ দেন মেসি। এরপর সেখান থেকেই শুরু হয় বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা হয়ে ওঠার যাত্রা।

কাতালান ক্লাবটির হয়ে দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় কাটিয়েছেন তিনি। জিতেছেন অসংখ্য দলীয় ও ব্যক্তিগত শিরোপা। তবে ২০২১ সালে ক্লাবের আর্থিক সংকটের কারণে বার্সেলোনার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হয় তাঁকে।

এত বছর পরও ক্লাবটির সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে বিশেষভাবে দেখেন মেসি। তাঁর কাছে বার্সেলোনা শুধু একটি ফুটবল দল নয়, বরং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সাক্ষাৎকারে মেসি স্মরণ করেন সেই সময়ের সতীর্থ ও দলের সাফল্যের দিনগুলো। তিনি জানান, বার্সেলোনায় তাঁদের দল প্রায় সবকিছুই জিতেছিল। তবে শুধু শিরোপা অর্জন নয়, একসঙ্গে অনুশীলন করা, মাঠে খেলা এবং প্রতিদিনের সময় উপভোগ করার অভিজ্ঞতাও ছিল অসাধারণ।

প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কারটি মেসির কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাঁর বাবার কারণে।

গত ৮ আগস্ট মারা যান তাঁর বাবা হোর্হে মেসি। মৃত্যুর আগে ছেলেকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার গ্রহণের জন্য স্পেনে যাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছিলেন তিনি।

মেসি জানান, ব্যস্ত ফুটবল সূচির কারণে স্পেনে এসে পুরস্কার গ্রহণ করা কঠিন হতে পারে বলে তাঁরা জানতেন। তারপরও তাঁর বাবা চেয়েছিলেন, তিনি যেন ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে সম্মাননাটি গ্রহণ করেন।

বাবার সেই আগ্রহের কথা স্মরণ করে মেসি বলেন, পুরস্কারটি নিয়ে হোর্হে মেসি অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন। কারণ, এই স্বীকৃতি শুধু মাঠের পারফরম্যান্স কিংবা ফুটবল ক্যারিয়ারের অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

বাবা বেঁচে থাকলে এই সম্মাননা পাওয়ার মুহূর্তটি বিশেষভাবে উপভোগ করতেন বলেও বিশ্বাস করেন আর্জেন্টাইন তারকা।

ফুটবল মাঠে অসাধারণ সাফল্যের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্টস পেয়েছেন মেসি।

বিশেষ করে তাঁর দাতব্য ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তার বিষয়টি পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেয়েছে।

স্পেনের প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশন গত ৩ জুন মেসিকে এ বছরের ক্রীড়া বিভাগের পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

শুক্রবার ওভিয়েদোর কাম্পোয়ামোর থিয়েটারে আনুষ্ঠানিক আয়োজনে স্পেনের রাজকুমারী লিওনরের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন মেসি।

নতুন এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে আরও একটি সম্মাননা যুক্ত হলো। তবে পুরস্কারের আনন্দের মধ্যেও বার্সেলোনার স্মৃতি এবং বাবার প্রতি ভালোবাসাই বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে মেসির কথায়।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ