ঢাকা    রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হলেন শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হলেন শাহাদাত হোসেন
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেনকে এবার একই প্রতিষ্ঠানের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আদালতের রায়ে মেয়র হওয়ার পর তাঁর দায়িত্ব পালনের মেয়াদ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যেই নতুন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

রোববার (২৫ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। জনস্বার্থে জারি করা আদেশটি অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জুয়েল রানার সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪ অনুযায়ী শাহাদাত হোসেনকে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।

সিটি করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় প্রশাসক হিসেবে মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী মাসিক সম্মানী ও অন্যান্য ভাতা পাবেন তিনি।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শাহাদাত হোসেনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সিটি করপোরেশন পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ওই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি। আইন অনুযায়ী পাঁচ বছরের মেয়াদ গণনা করলে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে।

তবে শাহাদাত হোসেনের দাবি ছিল ভিন্ন। তিনি জানিয়েছিলেন, আদালতের রায়ের ভিত্তিতে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের অধিকার রয়েছে তাঁর।

অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের নথিতে বলা হয়, আদালত তাঁকে নির্বাচিত মেয়র ঘোষণা করলেও দায়িত্ব পালনের মেয়াদ নিয়ে আলাদা কোনো নির্দেশনা দেননি।

এই পরিস্থিতিতে গত মার্চে শাহাদাত হোসেনকে পূর্ণকালীন প্রশাসক করার একটি প্রস্তাব প্রস্তুত করেছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ। তবে তখন আর আনুষ্ঠানিক নিয়োগ আদেশ জারি করা হয়নি।

এরও আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নতুন নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ।

২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন শাহাদাত হোসেন।

ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তৎকালীন ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, রেজাউল করিম পেয়েছিলেন ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট। অন্যদিকে শাহাদাত হোসেনের ভোট ছিল ৫২ হাজার ৪৮৯টি।

নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল বাতিলের আবেদন করেন শাহাদাত। ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে করা মামলায় তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নয়জনকে বিবাদী করা হয়।

এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে।

ওই বছরের ১৯ আগস্ট রেজাউল করিম চৌধুরীকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করা হয়। তাঁর পরিবর্তে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলামকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ১ অক্টোবর চট্টগ্রামের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ খাইরুল আমীন শাহাদাত হোসেনের মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী ঘোষণার সিদ্ধান্ত বাতিল করে শাহাদাত হোসেনকে নির্বাচিত মেয়র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ১০ দিনের মধ্যে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারির নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে।

পরে ৩ নভেম্বর সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে মেয়র হিসেবে শপথ নেন তিনি। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২১ সালের নির্বাচনের প্রায় তিন বছর নয় মাস পর আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন শাহাদাত হোসেন।

এবার ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর সরকারের নতুন প্রজ্ঞাপনে তাঁর দায়িত্বের ধরন বদলানো হলো। নির্বাচিত মেয়রের পরিবর্তে সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন তিনি।

ট্যাগ : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হলেন শাহাদাত হোসেন

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেনকে এবার একই প্রতিষ্ঠানের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আদালতের রায়ে মেয়র হওয়ার পর তাঁর দায়িত্ব পালনের মেয়াদ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যেই নতুন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

রোববার (২৫ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। জনস্বার্থে জারি করা আদেশটি অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জুয়েল রানার সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪ অনুযায়ী শাহাদাত হোসেনকে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।

সিটি করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় প্রশাসক হিসেবে মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী মাসিক সম্মানী ও অন্যান্য ভাতা পাবেন তিনি।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শাহাদাত হোসেনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সিটি করপোরেশন পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ওই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি। আইন অনুযায়ী পাঁচ বছরের মেয়াদ গণনা করলে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে।

তবে শাহাদাত হোসেনের দাবি ছিল ভিন্ন। তিনি জানিয়েছিলেন, আদালতের রায়ের ভিত্তিতে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের অধিকার রয়েছে তাঁর।

অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের নথিতে বলা হয়, আদালত তাঁকে নির্বাচিত মেয়র ঘোষণা করলেও দায়িত্ব পালনের মেয়াদ নিয়ে আলাদা কোনো নির্দেশনা দেননি।

এই পরিস্থিতিতে গত মার্চে শাহাদাত হোসেনকে পূর্ণকালীন প্রশাসক করার একটি প্রস্তাব প্রস্তুত করেছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ। তবে তখন আর আনুষ্ঠানিক নিয়োগ আদেশ জারি করা হয়নি।

এরও আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নতুন নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ।

২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন শাহাদাত হোসেন।

ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তৎকালীন ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, রেজাউল করিম পেয়েছিলেন ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট। অন্যদিকে শাহাদাত হোসেনের ভোট ছিল ৫২ হাজার ৪৮৯টি।

নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল বাতিলের আবেদন করেন শাহাদাত। ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে করা মামলায় তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নয়জনকে বিবাদী করা হয়।

এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে।

ওই বছরের ১৯ আগস্ট রেজাউল করিম চৌধুরীকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করা হয়। তাঁর পরিবর্তে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলামকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ১ অক্টোবর চট্টগ্রামের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ খাইরুল আমীন শাহাদাত হোসেনের মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী ঘোষণার সিদ্ধান্ত বাতিল করে শাহাদাত হোসেনকে নির্বাচিত মেয়র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ১০ দিনের মধ্যে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারির নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে।

পরে ৩ নভেম্বর সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে মেয়র হিসেবে শপথ নেন তিনি। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২১ সালের নির্বাচনের প্রায় তিন বছর নয় মাস পর আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন শাহাদাত হোসেন।

এবার ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর সরকারের নতুন প্রজ্ঞাপনে তাঁর দায়িত্বের ধরন বদলানো হলো। নির্বাচিত মেয়রের পরিবর্তে সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন তিনি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ