ঢাকা    রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, সেই যুবকের ৭ দিনের রিমান্ড

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, সেই যুবকের ৭ দিনের রিমান্ড
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরে ব্যবহৃত বাসের ছবি সংবলিত ফেসবুক পোস্টে ‘স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. আবু বকর সিদ্দিককে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। শুনানিতে তিনি দাবি করেছেন, কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই মজা করে মন্তব্যটি করেছিলেন। নিজের ভুলের কথাও স্বীকার করেন তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এদিন আবু বকর সিদ্দিককে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপপরিদর্শক মো. ইয়াছিন পাইক।

রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সামছুদ্দোহান সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তবে শুনানিতে আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

আদালতে বিচারক আবু বকর সিদ্দিকের কাছে মন্তব্যটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কমেন্টটি মজা করে করছি। কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। ভুল হয়ে গেছে।’

এরপর আদালত তাঁকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং এজাহারে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে শনাক্ত করতে আবু বকর সিদ্দিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

পুলিশের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে করা মন্তব্যটির পেছনে কোনো পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।

বিশেষ করে এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি, সংগঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, অস্ত্র সরবরাহকারী চক্র কিংবা নিষিদ্ধ সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে চায় তদন্ত সংস্থা।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, অভিযুক্তের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পর্যালোচনা করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে আপত্তিকর মন্তব্যের তথ্য পাওয়া গেছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সামছুদ্দোহান সুমন শুনানিতে বলেন, আসামি ভুল স্বীকার করলেও প্রধানমন্ত্রীর বাসের ছবি নিয়ে করা মন্তব্যকে সাধারণ মন্তব্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ঘটনার বিস্তারিত জানতে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরে ব্যবহৃত বাসের তিনটি ছবি প্রকাশ করা হয়।

ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসের পরিবর্তে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বাস ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।

পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপার এর অভাব ছিল।’

মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে।

পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংশ্লিষ্ট ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করার কথা জানায় পুলিশ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী মহানগরীর পবা থানা এলাকা থেকে আবু বকর সিদ্দিককে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর বাবা মো. আয়নাল হককেও আটক করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় বাবাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আবু বকর সিদ্দিকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও জব্দ করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপপরিদর্শক মো. মানিক হোসেন বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।

গত ২৩ অক্টোবর আবু বকর সিদ্দিককে আদালতে হাজির করা হলে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরে অধিকতর তদন্তের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। রোববার শুনানি শেষে সেই আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।

তবে আবু বকর সিদ্দিকের মন্তব্যের পেছনে সত্যিই কোনো সংঘবদ্ধ পরিকল্পনা বা অপরাধমূলক চক্রের সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা এখনো তদন্তাধীন।

ট্যাগ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রিমান্ড

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, সেই যুবকের ৭ দিনের রিমান্ড

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরে ব্যবহৃত বাসের ছবি সংবলিত ফেসবুক পোস্টে ‘স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. আবু বকর সিদ্দিককে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। শুনানিতে তিনি দাবি করেছেন, কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই মজা করে মন্তব্যটি করেছিলেন। নিজের ভুলের কথাও স্বীকার করেন তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এদিন আবু বকর সিদ্দিককে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপপরিদর্শক মো. ইয়াছিন পাইক।

রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সামছুদ্দোহান সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তবে শুনানিতে আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

আদালতে বিচারক আবু বকর সিদ্দিকের কাছে মন্তব্যটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কমেন্টটি মজা করে করছি। কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। ভুল হয়ে গেছে।’

এরপর আদালত তাঁকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং এজাহারে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে শনাক্ত করতে আবু বকর সিদ্দিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

পুলিশের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে করা মন্তব্যটির পেছনে কোনো পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।

বিশেষ করে এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি, সংগঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, অস্ত্র সরবরাহকারী চক্র কিংবা নিষিদ্ধ সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে চায় তদন্ত সংস্থা।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, অভিযুক্তের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পর্যালোচনা করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে আপত্তিকর মন্তব্যের তথ্য পাওয়া গেছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সামছুদ্দোহান সুমন শুনানিতে বলেন, আসামি ভুল স্বীকার করলেও প্রধানমন্ত্রীর বাসের ছবি নিয়ে করা মন্তব্যকে সাধারণ মন্তব্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ঘটনার বিস্তারিত জানতে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরে ব্যবহৃত বাসের তিনটি ছবি প্রকাশ করা হয়।

ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসের পরিবর্তে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বাস ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।

পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপার এর অভাব ছিল।’

মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে।

পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংশ্লিষ্ট ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করার কথা জানায় পুলিশ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী মহানগরীর পবা থানা এলাকা থেকে আবু বকর সিদ্দিককে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর বাবা মো. আয়নাল হককেও আটক করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় বাবাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আবু বকর সিদ্দিকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও জব্দ করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপপরিদর্শক মো. মানিক হোসেন বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।

গত ২৩ অক্টোবর আবু বকর সিদ্দিককে আদালতে হাজির করা হলে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরে অধিকতর তদন্তের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। রোববার শুনানি শেষে সেই আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।

তবে আবু বকর সিদ্দিকের মন্তব্যের পেছনে সত্যিই কোনো সংঘবদ্ধ পরিকল্পনা বা অপরাধমূলক চক্রের সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা এখনো তদন্তাধীন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ