চীনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক স্কুল স্পোর্টস ফেডারেশনের (আইএসএফ) অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবল বিশ্বকাপে চরম হতাশাজনক ও লজ্জাজনক পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে অভিযান শেষ করেছে বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলাররা। টুর্নামেন্টে খেলা পাঁচটি ম্যাচের কোনোটিতেই প্রতিপক্ষের জালে একবারও বল পাঠাতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা; উল্টো নিজেদের জালে বল ঢুকতে দেখেছে অবিশ্বাস্য ১৪৬ বার। ধারাবাহিক এমন শোচনীয় পরাজয়ে শূন্য হাতে দেশে ফেরার অপেক্ষা করছে দলটি।
গত ১৯ অক্টোবর চীনের সুচৌ তাইহু এফসি স্টেডিয়ামের ৭ নম্বর মাঠে চেক প্রজাতন্ত্রের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচেই কোনো প্রতিরোধ গড়তে না পেরে চেক যুবাদের কাছে ২৭-০ গোলের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয় তারা। এরপর ২০ অক্টোবর দ্বিতীয় ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে পরিস্থিতি আরও বিপর্যয়ে রূপ নেয়; বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তিদের কাছে ৩৫-০ গোলে পরাজিত হয় বাংলাদেশ।
পরের দিন ২১ অক্টোবর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মরক্কোর সামনে দাঁড়াতেই পারেনি দল। সুচৌ এক্সপেরিমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সিটি মাঠে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে মরক্কোর কাছে ৩৩-০ গোলে হেরে ‘সি’ গ্রুপের তলানিতে থেকে গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং আলজেরিয়ার বিপক্ষে টুর্নামেন্টে নিজেদের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের শিকার হয় লাল-সবুজের যুবারা; ম্যাচটিতে তারা পরাজিত হয় রেকর্ড ৪০-০ গোলের ব্যবধানে। সর্বশেষ ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হয়েও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দল, সেখানে ১১-০ গোলে পরাজিত হয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।
সব মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে একটিও গোল করতে না পেরে নিজেদের জালে ১৪৬টি গোল হজম করার এই একতরফা পরিসংখ্যান দেশের ফুটবলাঙ্গনে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এমন বড় আসরে অংশ নেওয়ার আগে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা, টেকনিক্যাল প্রস্তুতি এবং দল নির্বাচনের মান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
মন্তব্যসমূহ