ঢাকা    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

তুরস্কের মানবাধিকার ইস্যুতে নীরব পশ্চিমা মিত্ররা

তুরস্কের মানবাধিকার ইস্যুতে নীরব পশ্চিমা মিত্ররা
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ মিত্র তুরস্কে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রকাশ্য সমালোচনা অনেকটাই কমে গেছে। নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও রাশিয়া ইস্যুতে আঙ্কারার কৌশলগত গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ায় পশ্চিমা মিত্ররা এখন তুরস্কের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নেওয়া এড়িয়ে চলছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটোর ৩২ সদস্য দেশের নেতারা বৈঠকে বসবেন। ওই বৈঠকে তুরস্কের বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির বিরুদ্ধে চলমান আইনি পদক্ষেপ, বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার কিংবা গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা কম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঁচ বছর আগে তুরস্কে কারাবন্দি সমাজকর্মী ও ব্যবসায়ী ওসমান কাভালার মুক্তির আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডাসহ ১০ দেশের রাষ্ট্রদূত বড় কূটনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছিলেন। সে সময় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান তাঁদের বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে উত্তেজনা কমলেও এরপর থেকে পশ্চিমা দেশগুলো তুরস্কের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলায় আরও সতর্ক হয়ে ওঠে।

রয়টার্স বলছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ইউরোপে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে। এর ফলে ন্যাটো মিত্রদের কাছে তুরস্কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। তুরস্ক ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তির অধিকারী দেশ। একই সঙ্গে দেশটি সামরিক ড্রোন রপ্তানিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

সমালোচকদের মতে, পশ্চিমা দেশগুলোর এই নীরবতা তুরস্কে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতাকে আরও উৎসাহিত করতে পারে। তাঁদের দাবি, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রশ্নে ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাকালীন মূল্যবোধের সঙ্গে এই অবস্থান সাংঘর্ষিক।

তুরস্কে বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ও ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত। গত দুই বছরে দলটির শত শত নির্বাচিত কর্মকর্তা ও সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। দলটির দাবি, তুরস্কের বিচার বিভাগ স্বাধীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আদালত ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয়।

ন্যাটো সম্মেলনের আগে তুরস্কে স্বাধীন গণমাধ্যমের কয়েক ডজন সাংবাদিককে অনুষ্ঠান কাভার করার অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দুই শতাধিক মানুষকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

কূটনীতিকদের একাংশের মতে, প্রকাশ্য সমালোচনার বদলে তুর্কি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় এসব উদ্বেগ তোলা বেশি কার্যকর হতে পারে। তবে সমালোচকেরা বলছেন, প্রকাশ্য চাপ না থাকলে আঙ্কারা এসব ইস্যুতে কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করবে না।

রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলো এখন তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ককে মূল্যবোধের চেয়ে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা স্বার্থের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে বেশি আগ্রহী। বিশেষ করে ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় তুরস্ককে অপরিহার্য অংশীদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আঙ্কারা চায়, আসন্ন ন্যাটো সম্মেলনে জোটের ঐক্য ও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি সামনে আসুক। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে জানিয়েছেন, সম্মেলনে কয়েক হাজার কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


তুরস্কের মানবাধিকার ইস্যুতে নীরব পশ্চিমা মিত্ররা

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ মিত্র তুরস্কে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রকাশ্য সমালোচনা অনেকটাই কমে গেছে। নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও রাশিয়া ইস্যুতে আঙ্কারার কৌশলগত গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ায় পশ্চিমা মিত্ররা এখন তুরস্কের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নেওয়া এড়িয়ে চলছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটোর ৩২ সদস্য দেশের নেতারা বৈঠকে বসবেন। ওই বৈঠকে তুরস্কের বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির বিরুদ্ধে চলমান আইনি পদক্ষেপ, বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার কিংবা গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা কম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঁচ বছর আগে তুরস্কে কারাবন্দি সমাজকর্মী ও ব্যবসায়ী ওসমান কাভালার মুক্তির আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডাসহ ১০ দেশের রাষ্ট্রদূত বড় কূটনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছিলেন। সে সময় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান তাঁদের বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে উত্তেজনা কমলেও এরপর থেকে পশ্চিমা দেশগুলো তুরস্কের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলায় আরও সতর্ক হয়ে ওঠে।

রয়টার্স বলছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ইউরোপে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে। এর ফলে ন্যাটো মিত্রদের কাছে তুরস্কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। তুরস্ক ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তির অধিকারী দেশ। একই সঙ্গে দেশটি সামরিক ড্রোন রপ্তানিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

সমালোচকদের মতে, পশ্চিমা দেশগুলোর এই নীরবতা তুরস্কে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতাকে আরও উৎসাহিত করতে পারে। তাঁদের দাবি, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রশ্নে ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাকালীন মূল্যবোধের সঙ্গে এই অবস্থান সাংঘর্ষিক।

তুরস্কে বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ও ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত। গত দুই বছরে দলটির শত শত নির্বাচিত কর্মকর্তা ও সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। দলটির দাবি, তুরস্কের বিচার বিভাগ স্বাধীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আদালত ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয়।

ন্যাটো সম্মেলনের আগে তুরস্কে স্বাধীন গণমাধ্যমের কয়েক ডজন সাংবাদিককে অনুষ্ঠান কাভার করার অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দুই শতাধিক মানুষকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

কূটনীতিকদের একাংশের মতে, প্রকাশ্য সমালোচনার বদলে তুর্কি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় এসব উদ্বেগ তোলা বেশি কার্যকর হতে পারে। তবে সমালোচকেরা বলছেন, প্রকাশ্য চাপ না থাকলে আঙ্কারা এসব ইস্যুতে কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করবে না।

রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলো এখন তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ককে মূল্যবোধের চেয়ে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা স্বার্থের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে বেশি আগ্রহী। বিশেষ করে ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় তুরস্ককে অপরিহার্য অংশীদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আঙ্কারা চায়, আসন্ন ন্যাটো সম্মেলনে জোটের ঐক্য ও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি সামনে আসুক। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে জানিয়েছেন, সম্মেলনে কয়েক হাজার কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ