ঢাকা    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯২১ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশে উচ্চশিক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলনে বহু শিক্ষার্থী জীবন দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখন প্রয়োজন গণতন্ত্রকে সুসংহত করা। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ সময়োপযোগী বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করা জরুরি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নতুন কর্মপন্থা নিতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোপ্রযুক্তি এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। শিক্ষাকে শুধু সনদনির্ভর না রেখে কর্মদক্ষতা ও ব্যবহারিক জ্ঞানের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি এবং শিল্প-শিক্ষা সহযোগিতা বাস্তবায়ন জরুরি। এসব উদ্যোগ শুধু পরিকল্পনায় সীমাবদ্ধ না রেখে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও একাডেমিক যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সংস্কৃতি আরও জোরদার করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গবেষণা ও উদ্ভাবনে বেশি মনোযোগী হতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অ্যালামনাই দেশে-বিদেশে শিক্ষা, বিজ্ঞান, অর্থনীতি ও পেশাগত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চাকে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে বহুমাত্রিক শিক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বৈশ্বিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতার জন্য শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষায় দক্ষ হওয়া প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সচেতনতার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

ট্যাগ : তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযুদ্ধ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯২১ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশে উচ্চশিক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলনে বহু শিক্ষার্থী জীবন দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখন প্রয়োজন গণতন্ত্রকে সুসংহত করা। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ সময়োপযোগী বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করা জরুরি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নতুন কর্মপন্থা নিতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোপ্রযুক্তি এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। শিক্ষাকে শুধু সনদনির্ভর না রেখে কর্মদক্ষতা ও ব্যবহারিক জ্ঞানের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি এবং শিল্প-শিক্ষা সহযোগিতা বাস্তবায়ন জরুরি। এসব উদ্যোগ শুধু পরিকল্পনায় সীমাবদ্ধ না রেখে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও একাডেমিক যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সংস্কৃতি আরও জোরদার করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গবেষণা ও উদ্ভাবনে বেশি মনোযোগী হতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অ্যালামনাই দেশে-বিদেশে শিক্ষা, বিজ্ঞান, অর্থনীতি ও পেশাগত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চাকে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে বহুমাত্রিক শিক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বৈশ্বিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতার জন্য শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষায় দক্ষ হওয়া প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সচেতনতার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ