যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশ খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার ৬-৩ ভোটে দেওয়া রায়ে নিম্ন আদালতের স্থগিতাদেশ বহাল রাখা হয়।
অভিবাসন নীতি কঠোর করার এই উদ্যোগ বাতিল হওয়াকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের আইনি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই বিতর্কিত এই নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন ট্রাম্প। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুর মা-বাবার অন্তত একজন যদি মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বৈধ বাসিন্দা না হন, তবে সেই শিশু জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাবে না।
সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত লেখেন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস। রায়ে মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত সুরক্ষার কথা উল্লেখ করা হয়।
আদালত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া ব্যক্তির নাগরিকত্বের অধিকার সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত। মা-বাবা সাময়িকভাবে বা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও সেখানে জন্ম নেওয়া শিশু জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকারী।
প্রধান বিচারপতি রবার্টস তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, নাগরিকত্ব তখনো এবং এখনো রাজনৈতিক সম্প্রদায়ে অবাধ অংশগ্রহণের অধিকার পাওয়ার চাবিকাঠি। চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতারা এই ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া মানুষের জন্য সেই প্রতিশ্রুতি প্রসারিত করেছিলেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালত ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশকে চতুর্দশ সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে ১৮৯৮ সালের ঐতিহাসিক ওয়ং কিম আর্ক মামলার নজিরও বহাল রাখা হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ব্যক্তির নাগরিকত্বের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিল।
ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দিয়েছিল, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব শুধু তাদের সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া উচিত, যাদের মা-বাবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি স্থায়ী আনুগত্য রয়েছে। তবে আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি।
এ রায় ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির জন্য বড় ধাক্কা হলেও একই দিন সুপ্রিম কোর্টের আরেকটি সিদ্ধান্তে স্বস্তি পেয়েছেন তিনি। মেয়েদের স্কুল ও কলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অংশগ্রহণে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন আদালত।
আইডাহো ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার আইনের বিরুদ্ধে করা দুটি মামলার শুনানি শেষে আদালত জানায়, অঙ্গরাজ্যগুলো চাইলে মেয়েদের ক্রীড়া দলে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে জন্মকালীন নিবন্ধিত লিঙ্গের ভিত্তিতে নিয়ম করতে পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে বেশি ক্ষমতা দেবে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক বলে সমালোচনা করেছে।
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় অভিবাসন নীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের সীমা নতুন করে স্পষ্ট করল। একই সঙ্গে ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়া ইস্যুতে আদালতের রায় যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংস্কৃতি ও নাগরিক অধিকার বিতর্ককে আরও জোরালো করতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ