বলিউড অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা ও তাঁর স্বামী অভিনেতা জাহির ইকবাল অভিনীত রোমান্টিক সিনেমা ‘তু হ্যায় মেরি কিরণ’-এর নির্ধারিত মুক্তি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগেই সহপ্রযোজকের বিনিয়োগের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মূল প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে ৮ কোটি ৮৫ লাখ রুপি জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বোম্বে হাইকোর্ট। নির্ধারিত তিন কার্যদিবসের মধ্যে এই অর্থ জমা দিতে ব্যর্থ হলে সিনেমাটি বাণিজ্যিকভাবে কোনো প্রেক্ষাগৃহ বা মাধ্যমে মুক্তি বা প্রদর্শন করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিচারপতি অমিত বোরকারের একক বেঞ্চ এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করেন বলে নিশ্চিত করেছে ভারতীয় বিনোদনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বলিউড হাঙ্গামা। আগামী ২৩ অক্টোবর ছবিটি ভারতের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, ছবির মূল প্রযোজনা সংস্থা ইশেলন প্রোডাকশনসকে বিতর্কিত ৮ কোটি ৮৫ লাখ রুপির পাশাপাশি বার্ষিক ১৫ শতাংশ হারে হিসাবকৃত সুদও আদালতে জমা দিতে হবে।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, বিরোধের সূত্রপাত মূলত ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ স্বাক্ষরিত একটি যৌথ প্রযোজনা চুক্তিকে কেন্দ্র করে। ১৫ কোটি রুপি বাজেটের ওই প্রকল্পে দুই পক্ষের প্রত্যেকে ৭ কোটি ৫০ লাখ রুপি করে বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রযোজ্য জিএসটি বহনের শর্ত ছিল। সহপ্রযোজক প্রতিষ্ঠান ‘এএনডি মুভি প্রোডাক্টস এলএলপি’-এর অভিযোগ, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তারা ধাপে ধাপে মোট ৮ কোটি ৮৫ লাখ রুপি প্রকল্পে লগ্নি করেছে। কিন্তু চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে সেই লগ্নিকৃত অর্থ তারা ফেরত পায়নি।
শুনানি শেষে আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, চুক্তি অনুসারে বিনিয়োগকৃত অর্থ পরিশোধের নির্ধারিত সময়সীমা ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিলেই শেষ হয়ে গেছে। পরবর্তীতে ছবিটির মুক্তির আনুষ্ঠানিক তারিখ একতরফাভাবে ঘোষণা করে সেই আইনি সময়সীমা বাড়ানো যায় না। এ ছাড়া আদালত আরও নির্দেশ দেন, সিনেমাটি মুক্তির পর যাবতীয় আয় একটি পৃথক নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে রাখতে হবে এবং তার আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব নিয়মিত দাখিল করতে হবে। পাশাপাশি ছবির যেকোনো ধরনের বাণিজ্যিক বা ওটিটি স্বত্ব বিক্রির চুক্তির ক্ষেত্রেও সহপ্রযোজকের লিখিত সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ