আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গান্তজ। জনমত জরিপগুলোতে তাঁর দল পার্লামেন্টে প্রবেশের ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ভোট পাওয়ার মানদণ্ডে ধারাবাহিকভাবে পিছিয়ে পড়ায় ভোটের মাত্র আট দিন আগে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তেল আবিবে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের দল ‘ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট’ (কাহোল লাভান)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে ৬৭ বছর বয়সি এই ঝানু রাজনীতিবিদ নিশ্চিত করেন যে, আগামী ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না।
ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী ১২০ আসনের আইনসভা নেসেটে প্রতিনিধিত্ব পেতে হলে যেকোনো রাজনৈতিক দলকে মোট ভোটের অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ব্যালট নিশ্চিত করতে হয় (ইলেকটোরাল থ্রেশহোল্ড)। নির্বাচনের আগমুহূর্তে দেশটির শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ও গবেষণা সংস্থাগুলোর জরিপে স্পষ্ট দেখা যায়, ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট দল এই ন্যূনতম সীমা স্পর্শ করতেও ব্যর্থ হচ্ছে। ভোটের বিভাজন এড়াতে এবং বিরোধী ব্লকের ভোট নষ্ট না করার আহ্বানের মুখে গান্তজ এই অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।
একসময় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হওয়া গান্তজ ২০২০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত নেতানিয়াহুর সঙ্গে জোট সরকারেও উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গঠিত যুদ্ধকালীন জরুরি মন্ত্রিসভায়ও তিনি যোগ দিয়েছিলেন। তবে ২০২৪ সালের জুনে নেতানিয়াহুর যুদ্ধপরবর্তী রণকৌশলে ‘প্রকৃত বিজয়ের পথে বাধা সৃষ্টির’ অভিযোগ তুলে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও দেশের চরম বিভক্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন গান্তজ। অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গান্তজের এই ঐক্যের বার্তা মূলত ইহুদিবাদী দলগুলোর মধ্যকার ঐক্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাঁর অবস্থান ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত কিংবা অ-ইহুদি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর প্রতি কখনোই উদার ছিল না। ফলে গান্তজের সরে দাঁড়ানো নেতানিয়াহুবিরোধী ও ডানপন্থি জোটের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্যসমূহ