ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ফ্রান্সে দাঙ্গায় আড়াই হাজার গ্রেপ্তার, প্যারিসে সমাবেশ নিষিদ্ধ

ফ্রান্সে দাঙ্গায় আড়াই হাজার গ্রেপ্তার, প্যারিসে সমাবেশ নিষিদ্ধ
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যের প্রতিবাদে শুরু হওয়া গণআন্দোলন রূপ নিয়েছে ভয়াবহ সহিংসতা, দাঙ্গা ও ব্যাপক লুটপাটে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ায় রাজধানী প্যারিসের কেন্দ্রস্থলসহ দেশটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে রাতের কারফিউ জারি করেছে ফ্রান্স সরকার। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েকটি সংবেদনশীল এলাকায় সব ধরনের জনসমাবেশ ও জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দেশজুড়ে চলমান এই সহিংস বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় এখন পর্যন্ত আড়াই হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংঘাত দমনে গিয়ে আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য। সহিংসতায় দুই হাজারের বেশি দোকানপাট ও বাণিজ্যিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছে। ফ্রান্সের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রধান আলাঁ দি ক্রেসেনজো জানিয়েছেন, প্রাথমিক হিসাবে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শত মিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে গেছে।

মূলত জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং নাগরিক সেবার চরম অবনতির প্রতিবাদ জানাতে ফ্রান্সজুড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। তবে বিক্ষোভের একপর্যায়ে বিভিন্ন শহরে ভবনে অগ্নিসংযোগ, ব্যক্তিগত ও সরকারি গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া এবং প্রকাশ্য লুটপাটের মতো অরাজক ঘটনা ঘটতে থাকে। এমন প্রেক্ষাপটে প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক ও লে আল শপিং এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কঠোর কারফিউ জারি করা হয়েছে। রাজধানী ছাড়াও মার্সেই, বোর্দো, নিস, লিওঁ এবং লিলে শহর প্রশাসনও বিভিন্ন মাত্রার নিরাপত্তা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে সরকার বিশেষ অর্থ বরাদ্দ দেবে; তবে সহিংসতার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের কাছ থেকেও সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে দেশজুড়ে পূর্ণাঙ্গ জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করে দেননি।

এদিকে বিক্ষোভ চরম রূপ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ স্বীকার করেছেন যে, কয়েকটি শহরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাময়িকভাবে পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল। সহিংসতার ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে তিনি পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেন।

সূত্র: বিবিসি 

ট্যাগ : ফ্রান্স দাঙ্গা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


ফ্রান্সে দাঙ্গায় আড়াই হাজার গ্রেপ্তার, প্যারিসে সমাবেশ নিষিদ্ধ

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যের প্রতিবাদে শুরু হওয়া গণআন্দোলন রূপ নিয়েছে ভয়াবহ সহিংসতা, দাঙ্গা ও ব্যাপক লুটপাটে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ায় রাজধানী প্যারিসের কেন্দ্রস্থলসহ দেশটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে রাতের কারফিউ জারি করেছে ফ্রান্স সরকার। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েকটি সংবেদনশীল এলাকায় সব ধরনের জনসমাবেশ ও জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দেশজুড়ে চলমান এই সহিংস বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় এখন পর্যন্ত আড়াই হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংঘাত দমনে গিয়ে আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য। সহিংসতায় দুই হাজারের বেশি দোকানপাট ও বাণিজ্যিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছে। ফ্রান্সের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রধান আলাঁ দি ক্রেসেনজো জানিয়েছেন, প্রাথমিক হিসাবে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শত মিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে গেছে।

মূলত জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং নাগরিক সেবার চরম অবনতির প্রতিবাদ জানাতে ফ্রান্সজুড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। তবে বিক্ষোভের একপর্যায়ে বিভিন্ন শহরে ভবনে অগ্নিসংযোগ, ব্যক্তিগত ও সরকারি গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া এবং প্রকাশ্য লুটপাটের মতো অরাজক ঘটনা ঘটতে থাকে। এমন প্রেক্ষাপটে প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক ও লে আল শপিং এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কঠোর কারফিউ জারি করা হয়েছে। রাজধানী ছাড়াও মার্সেই, বোর্দো, নিস, লিওঁ এবং লিলে শহর প্রশাসনও বিভিন্ন মাত্রার নিরাপত্তা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে সরকার বিশেষ অর্থ বরাদ্দ দেবে; তবে সহিংসতার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের কাছ থেকেও সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে দেশজুড়ে পূর্ণাঙ্গ জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করে দেননি।

এদিকে বিক্ষোভ চরম রূপ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ স্বীকার করেছেন যে, কয়েকটি শহরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাময়িকভাবে পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল। সহিংসতার ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে তিনি পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেন।

সূত্র: বিবিসি 


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ