ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল চলতি সপ্তাহে কাতারের রাজধানী দোহায় যাচ্ছে। তবে দুই পক্ষ সরাসরি বৈঠকে বসবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে পাঠাচ্ছেন। অন্যদিকে ইরানও তাদের কারিগরি প্রতিনিধি দল কাতারে পাঠাচ্ছে। তবে তেহরান বলছে, তাদের সফরের সঙ্গে মার্কিন দলের সফরের কোনো সম্পর্ক নেই।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কোনো পর্যায়েই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বৈঠক হবে না। তার ভাষায়, ইরানের প্রতিনিধি দলের কাতার সফর আলাদা প্রক্রিয়ার অংশ।
তবে রয়টার্সের এক সূত্র জানিয়েছে, দোহায় মঙ্গলবার একটি বৈঠক হতে পারে। আগের কারিগরি বৈঠকগুলোর মতো এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে না শুধু যুদ্ধবিরতি; বরং হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনা এবং উত্তেজনা কমানোর পথ নিয়েই বেশি আলোচনা হতে পারে।
আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কারিগরি দল বুধবার কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করতে পারে। এর মাধ্যমে সরাসরি আলোচনার বদলে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চ্যানেল তৈরি করা হচ্ছে।
গত ১৭ জুনের সমঝোতা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কমপক্ষে ৬০ দিনের মধ্যে ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েছে। এতে এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথ তৈরির বিষয় রয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলায় সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়েও উত্তেজনা বাড়ছে। বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নিয়ন্ত্রণ, জাহাজ চলাচল ও মাইন অপসারণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, কাতারে জব্দ থাকা ১২ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৬ বিলিয়ন ডলার ইরানকে ফেরত দেওয়া হবে। তিনি এই সমঝোতাকে ইরানি জনগণের জন্য বড় বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
দোহা সফর তাই সরাসরি বৈঠকের নিশ্চয়তা না দিলেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ