ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিক্ষার্থীদের নির্বিচারে আটক এবং তিরঙ্গা পতাকাবাহী শান্তিপূর্ণ মিছিলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জনপ্রিয় বলিউড ও দক্ষিণী সিনেমার অভিনেতা এবং মানবাধিকারকর্মী প্রকাশ রাজ। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে অপসারণ না করা পর্যন্ত এবং বিতর্কিত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
সম্প্রতি ভারতের কেরালার তিরুবনন্তপুরমের মানবীয়ম বীথিতে সিইসি জ্ঞানেশ কুমার ও এসআইআর কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক নাগরিক প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন এই অভিনেতা।
সমাবেশের শুরুতে মাইক ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমতি না থাকার অজুহাতে পুলিশ আয়োজকদের বাধা দিলে সেখানে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর মৃদু ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে তীব্র প্রতিবাদের মুখে পুলিশ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার মৌখিক অনুমতি দেয়।
পুলিশি বাধার তীব্র সমালোচনা করে প্রকাশ রাজ বলেন, সরকারি দমন-পীড়ন সত্ত্বেও দেশের সচেতন তরুণ সমাজ মহাত্মা গান্ধী, বি আর আম্বেদকর ও বিপ্লবী ভগৎ সিংয়ের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ সংগ্রাম জারি রাখবে। তিনি মন্তব্য করেন, "আমাদের শরীরে গান্ধী, আম্বেদকর ও ভগৎ সিংয়ের রক্ত বইছে। আমরা পিছপা হব না; দেশজুড়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন চলবে। স্বৈরাচারী আচরণ করে দায়মুক্তি পাওয়ার যে ধারণা প্রশাসন পোষণ করছে, আমরা তা ভুল প্রমাণ করব।"
শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রকাশ রাজ নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি জবাবদিহিতার আওতায় আনেন। তিনি বলেন, "জ্ঞানেশ কুমার, আপনারা আমাদের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে চাইছেন কেন? আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানে বাধা দেওয়া এবং বেআইনিভাবে আটক করার ঘটনাই প্রমাণ করে যে ব্যবস্থার ভেতরে মারাত্মক কোনো ভুল হচ্ছে।"
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অতীতের রাজনৈতিক প্রচারণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "ভয়টা স্পষ্ট। আমি মোদিজিকে সরাসরি প্রশ্ন করছি—আপনার বহুল প্রচারিত 'ঘরে ঘরে তিরঙ্গা' স্লোগানের আজ কী পরিণতি হলো? আপনিই তো এই স্লোগানের প্রবক্তা ছিলেন। আজ সেই জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ মিছিল করতে গেলে তাঁদের গ্রেপ্তার ও হেনস্তা করা হচ্ছে কেন?"
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, প্রতিবাদকারীরা সম্পূর্ণ নিরস্ত্র এবং সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে থেকেই গণতান্ত্রিকভাবে তাঁদের মতামত প্রকাশ করছেন। ফলে সংবিধানস্বীকৃত এই অধিকার রক্ষা করতে সারা দেশেই প্রতিরোধ জারি থাকবে।
মন্তব্যসমূহ