ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

‘মার্কিন নৌবাহিনী না থাকলে জ্বালানি তেলের দাম তিন গুণ হতো’

‘মার্কিন নৌবাহিনী না থাকলে জ্বালানি তেলের দাম তিন গুণ হতো’
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর পাহারা ও উপস্থিতি না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণভাবে পেট্রোলের দাম বর্তমানের তুলনায় অন্তত তিন গুণ বেশি হতো বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। একই সঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটলেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের (CBS) আয়োজিত একটি বিশেষ ‘টাউন হল’ অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে এসব পর্যালোচনা তুলে ধরেন।

জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম অত্যন্ত চড়া। তবে তেহরানের বিরুদ্ধে চলমান এই সংঘাত সমাপ্তির দিকে পৌঁছালে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে বলে তাঁর বিশ্বাস। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা এবং বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের সামরিক পদক্ষেপকে দায়ী করেন তিনি। তাঁর মতে, কোনো একটি দেশ এককভাবে সমগ্র বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা রুদ্ধ করে দেওয়ার এমন আগ্রাসী চেষ্টা সমসাময়িক ইতিহাসে বিরল।

মার্কিন নৌবাহিনীর অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ভ্যান্স বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মার্কিন বাহিনী তৎপর রয়েছে। ওয়াশিংটন যদি সেখান থেকে সরে দাঁড়ায় এবং হরমুজ প্রণালির সামগ্রিক নৌচলাচল তেহরানের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে বিশ্বজুড়ে ভোক্তাদের পেট্রোলের জন্য কয়েক গুণ বেশি অর্থ গুনতে হবে।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, হরমুজ প্রণালির অবাধ জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত রাখাই এই মুহূর্তে ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান ভূরাজনৈতিক অগ্রাধিকার। পাশাপাশি ইরান যেন কোনোভাবেই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন বা সামরিক সক্ষমতায় এগিয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে যাচাইযোগ্য ও সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি আদায় করাও যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস বিশ্ববাজারে রপ্তানি হয়। ফলে এ নৌপথে যেকোনো সামরিক প্রতিবন্ধকতা বা জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

ট্যাগ : জেডি ভ্যান্স হরমুজ প্রণালি সংকট

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


‘মার্কিন নৌবাহিনী না থাকলে জ্বালানি তেলের দাম তিন গুণ হতো’

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর পাহারা ও উপস্থিতি না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণভাবে পেট্রোলের দাম বর্তমানের তুলনায় অন্তত তিন গুণ বেশি হতো বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। একই সঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটলেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের (CBS) আয়োজিত একটি বিশেষ ‘টাউন হল’ অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে এসব পর্যালোচনা তুলে ধরেন।

জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম অত্যন্ত চড়া। তবে তেহরানের বিরুদ্ধে চলমান এই সংঘাত সমাপ্তির দিকে পৌঁছালে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে বলে তাঁর বিশ্বাস। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা এবং বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের সামরিক পদক্ষেপকে দায়ী করেন তিনি। তাঁর মতে, কোনো একটি দেশ এককভাবে সমগ্র বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা রুদ্ধ করে দেওয়ার এমন আগ্রাসী চেষ্টা সমসাময়িক ইতিহাসে বিরল।

মার্কিন নৌবাহিনীর অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ভ্যান্স বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মার্কিন বাহিনী তৎপর রয়েছে। ওয়াশিংটন যদি সেখান থেকে সরে দাঁড়ায় এবং হরমুজ প্রণালির সামগ্রিক নৌচলাচল তেহরানের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে বিশ্বজুড়ে ভোক্তাদের পেট্রোলের জন্য কয়েক গুণ বেশি অর্থ গুনতে হবে।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, হরমুজ প্রণালির অবাধ জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত রাখাই এই মুহূর্তে ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান ভূরাজনৈতিক অগ্রাধিকার। পাশাপাশি ইরান যেন কোনোভাবেই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন বা সামরিক সক্ষমতায় এগিয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে যাচাইযোগ্য ও সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি আদায় করাও যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস বিশ্ববাজারে রপ্তানি হয়। ফলে এ নৌপথে যেকোনো সামরিক প্রতিবন্ধকতা বা জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।

সূত্র: সিবিএস নিউজ


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ