বগুড়ার শেরপুর পৌরসভা এলাকার ফরেস্ট অফিস গেট সংলগ্ন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও দূষিত অবস্থায় পড়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ জলাধারটি দখলমুক্ত এবং সম্পূর্ণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সংলগ্ন এলাকার দীর্ঘদিনের তীব্র জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে দূর করতে জলাধারটিকে পৌরসভার নির্মাণাধীন প্রধান ড্রেনের সঙ্গে যুক্ত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টায় এই বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান এবং কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ থাকায় ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এই জলাশয়টি আবর্জনা ও কচুরিপানায় ভরে মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় পরিণত হয়েছিল। এর সুযোগ নিয়ে আশপাশে গড়ে ওঠে বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা, যার ফলে বর্ষা মৌসুমে সংলগ্ন এলাকায় মারাত্মক জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
ইউএনও সাইদুজ্জামান হিমু জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জনগণের ভোগান্তি লাঘবে এর আগেই জলাধারটির আশপাশে গড়ে ওঠা বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এবার উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো জলাশয়টি আবর্জনামুক্ত করার কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে পৌরসভার নির্মাণাধীন ড্রেনের সঙ্গে এই জলাধারের সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হবে। পানিপ্রবাহ সচল করার পর জলাশয়ের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ফুলের গাছ রোপণ করে একে একটি দৃষ্টিনন্দন লেকে রূপান্তরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতি শনিবার নিয়মিতভাবে এ ধরনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখতে সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
উদ্বোধনী কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিরুল ইসলাম এবং শাহবন্দেগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল কালাম আজাদসহ প্রশাসন ও পৌরসভার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অভিযানে স্থানীয় এলাকাবাসীও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
মন্তব্যসমূহ