চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। নতুন এ পদ্ধতিতে চিকিৎসকদের মেধাক্রম, যোগ্যতা, মূল্যায়ন নম্বর এবং পছন্দের কর্মস্থল বিবেচনা করে সফটওয়্যারের মাধ্যমে পদায়ন নির্ধারণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী যৌথভাবে নতুন ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনের অংশ হিসেবে প্রথম পর্যায়ে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) পদে কর্মরত চিকিৎসকদের স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে পদায়ন করা হয়। এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত জানান, বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ৪০ হাজার চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। তাদের বদলি ও পদায়ন প্রশাসনিক কার্যক্রমের নিয়মিত অংশ হলেও অতীতে এ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল।
প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগ, বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় পরিচয়কে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন পদে নিয়োগ ও পদায়ন করা হয়েছে। এর ফলে স্বাস্থ্য খাতের প্রশাসনিক কাঠামো এবং সেবার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থা চালুর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই খাতকে নিয়মের মধ্যে ফিরিয়ে আনতে নিরলস কাজ চলছে। স্বাস্থ্যব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং তদবির-দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার অংশ হিসেবেই এই অটোমেশন সিস্টেমের উদ্বোধন করা হলো। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, আধুনিক ও মেধাভিত্তিক এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় চিকিৎসকদের মেধা, যোগ্যতা এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদায়ন নির্ধারণ করবে।’
নতুন সফটওয়্যারে চিকিৎসকদের বিসিএস ব্যাচভিত্তিক মেধাক্রম, নির্ধারিত বিভিন্ন মানদণ্ডে অর্জিত নম্বর এবং আবেদনকারীর দেওয়া কর্মস্থলের পছন্দক্রম বিশ্লেষণ করা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কর্মস্থল নির্বাচন করা হয়।
প্রক্রিয়াটির কার্যকারিতা তুলে ধরতে একটি উদাহরণ দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রথম পদায়ন আদেশ পাওয়া চিকিৎসক গাজী জাহাঙ্গীর হোসেন ১০০ নম্বরের মূল্যায়ন ম্যাট্রিক্সে ৮১.৬৫ নম্বর অর্জন করেছেন। এর ভিত্তিতে তিনি নিজের প্রথম পছন্দ অনুযায়ী বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদায়ন পেয়েছেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, উদ্বোধনের দিনই নতুন পদ্ধতিতে কয়েকজন চিকিৎসকের পদায়ন সম্পন্ন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের স্বাস্থ্য খাতের সব ধরনের বদলি ও পদায়ন কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়নে ব্যক্তিগত তদবির এবং অনিয়মের সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মস্থল নির্ধারণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ