ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইরানে ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ইরানে আরও বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র? সামরিক পরিকল্পনায় এবার উঠে এসেছে এমন এক বোমার নাম, যেটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক অস্ত্রগুলোর একটি।

মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনায় GBU-43/B Massive Ordnance Air Blast Bomb, অর্থাৎ ‘মাদার অব অল বম্বস’ বা ‘বোমার মা’ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি এখনো হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দিলে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে এই অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। 

প্রায় ৯ দশমিক ৮ টন ওজনের এই বোমা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা হিসেবে পরিচিত। এটি বিশাল এলাকায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ও ধ্বংসাত্মক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

২০১৭ সালে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের একটি সুড়ঙ্গ ও গুহা কমপ্লেক্সে প্রথমবার যুদ্ধক্ষেত্রে এই বোমা ব্যবহার করা হয়। 

কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন অন্য জায়গায়।

পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কিছু অংশ রয়েছে গভীর ভূগর্ভে। বিশেষ করে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকায় নির্মাণাধীন একটি শক্তভাবে সুরক্ষিত স্থাপনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ রয়েছে।

এই স্থাপনাটি পাহাড়ের গভীরে নির্মিত হওয়ায় বিশাল বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম হলেও ‘মাদার অব অল বম্বস’ সেটিকে ধ্বংস করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সামরিক পরিকল্পনাকারীদের মধ্যেই সংশয় রয়েছে। কারণ বোমাটি মূলত গভীর মাটির নিচে প্রবেশ করে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার জন্য তৈরি নয়। অর্থাৎ, আকাশ থেকে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটানো সম্ভব হলেও পাহাড়ের গভীরে থাকা শক্ত স্থাপনার বিরুদ্ধে এর কার্যকারিতা সীমিত হতে পারে।

তারপরও অস্ত্রটির সম্ভাব্য ব্যবহারকে বড় ধরনের সামরিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ ইরানে এটি ব্যবহার করা হলে চলমান সংঘাত আরও ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি স্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কাছে এমন অস্ত্র ব্যবহার হলে বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঝুঁকিও বাড়বে।

এদিকে মার্কিন সামরিক পরিকল্পনায় শুধু একটি হামলার বিকল্প নয়, ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সম্ভাব্য একাধিক হামলার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামো এবং পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো রয়েছে।

তবে ওয়াশিংটন এখনো জানায়নি যে এসব পরিকল্পনার কোনোটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা ঠেকাতে বিভিন্ন সামরিক বিকল্প বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে কূটনৈতিক পথও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাই একটাই।

ইরানের গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংস করতে পারবে কি ‘বোমার মা’? নাকি বিশাল বিস্ফোরণ ঘটিয়েও কাঙ্ক্ষিত সামরিক লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যর্থ হবে যুক্তরাষ্ট্র?

এ মুহূর্তে উত্তরটি নিশ্চিত নয়। তবে এই অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা সামনে আসাই ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিকল্পগুলো কতটা ভয়ংকর পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ট্যাগ : ইরান ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


ইরানে ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইরানে আরও বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র? সামরিক পরিকল্পনায় এবার উঠে এসেছে এমন এক বোমার নাম, যেটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক অস্ত্রগুলোর একটি।

মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনায় GBU-43/B Massive Ordnance Air Blast Bomb, অর্থাৎ ‘মাদার অব অল বম্বস’ বা ‘বোমার মা’ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি এখনো হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দিলে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে এই অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। 

প্রায় ৯ দশমিক ৮ টন ওজনের এই বোমা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা হিসেবে পরিচিত। এটি বিশাল এলাকায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ও ধ্বংসাত্মক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

২০১৭ সালে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের একটি সুড়ঙ্গ ও গুহা কমপ্লেক্সে প্রথমবার যুদ্ধক্ষেত্রে এই বোমা ব্যবহার করা হয়। 

কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন অন্য জায়গায়।

পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কিছু অংশ রয়েছে গভীর ভূগর্ভে। বিশেষ করে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকায় নির্মাণাধীন একটি শক্তভাবে সুরক্ষিত স্থাপনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ রয়েছে।

এই স্থাপনাটি পাহাড়ের গভীরে নির্মিত হওয়ায় বিশাল বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম হলেও ‘মাদার অব অল বম্বস’ সেটিকে ধ্বংস করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সামরিক পরিকল্পনাকারীদের মধ্যেই সংশয় রয়েছে। কারণ বোমাটি মূলত গভীর মাটির নিচে প্রবেশ করে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার জন্য তৈরি নয়। অর্থাৎ, আকাশ থেকে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটানো সম্ভব হলেও পাহাড়ের গভীরে থাকা শক্ত স্থাপনার বিরুদ্ধে এর কার্যকারিতা সীমিত হতে পারে।

তারপরও অস্ত্রটির সম্ভাব্য ব্যবহারকে বড় ধরনের সামরিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ ইরানে এটি ব্যবহার করা হলে চলমান সংঘাত আরও ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি স্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কাছে এমন অস্ত্র ব্যবহার হলে বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঝুঁকিও বাড়বে।

এদিকে মার্কিন সামরিক পরিকল্পনায় শুধু একটি হামলার বিকল্প নয়, ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সম্ভাব্য একাধিক হামলার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামো এবং পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো রয়েছে।

তবে ওয়াশিংটন এখনো জানায়নি যে এসব পরিকল্পনার কোনোটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা ঠেকাতে বিভিন্ন সামরিক বিকল্প বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে কূটনৈতিক পথও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাই একটাই।

ইরানের গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংস করতে পারবে কি ‘বোমার মা’? নাকি বিশাল বিস্ফোরণ ঘটিয়েও কাঙ্ক্ষিত সামরিক লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যর্থ হবে যুক্তরাষ্ট্র?

এ মুহূর্তে উত্তরটি নিশ্চিত নয়। তবে এই অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা সামনে আসাই ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিকল্পগুলো কতটা ভয়ংকর পর্যায়ে পৌঁছেছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ