পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া।
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর প্রদেশটির বারা এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পিটিআইয়ের সমর্থকেরা প্রাদেশিক সরকারের ওপর কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছিলেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে।
পিটিআই নেতাদের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের পাশাপাশি গুলি চালিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে কয়েকজন আহত হওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
তবে পুলিশের গুলি চালানোর অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে প্রাদেশিক প্রশাসন। তাদের দাবি, বিক্ষোভকারীরা দাঙ্গা ও ভাঙচুরে জড়িয়ে পড়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেয়।
ঘটনার পর প্রায় ৫০ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চারটি মামলা করা হয়েছে।
বারা এলাকায় একটি সরকারি কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবে এই আগুন ও হামলার জন্য কারা দায়ী, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।
এর আগে ১১ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার। এর ফলে ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকারের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায় এবং গভর্নরের মাধ্যমে প্রদেশটির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় সরকারের যুক্তি, প্রদেশটিতে জঙ্গি সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার পর স্থানীয় সরকার তা মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে পিটিআই এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে তাদের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে এবং এর বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জরুরি অবস্থা জারির পর পেশোয়ারসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কনটেইনার বসিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং সেনা সদস্যদের দায়িত্ব পালনের খবরও পাওয়া যায়। পেশোয়ারে একপর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবায়ও বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছিল। পরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে এসব ব্যবস্থার কয়েকটি শিথিল করা হয়।
কিন্তু বারা এলাকায় মঙ্গলবারের সংঘর্ষ দেখিয়ে দিচ্ছে, কেন্দ্রের এই কঠোর পদক্ষেপের পরও রাজনৈতিক উত্তেজনা কমেনি।
ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সহিংসতা উসকানি এবং অন্যান্য অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। ইমরান ও তার দল এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে।
খাইবার পাখতুনখোয়া ইমরানের রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী ঘাঁটিগুলোর একটি। প্রদেশটিতে পিটিআইয়ের সরকার ছিল। সেই সরকার স্থগিত করে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর এখন বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ও সংঘর্ষ নতুন করে রাজনৈতিক সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, নিরাপত্তার অজুহাতে কেন্দ্রের নেওয়া এই পদক্ষেপ পরিস্থিতি শান্ত করবে, নাকি ইমরান খানের দল ও কেন্দ্রীয় সরকারের সংঘাত আরও বাড়াবে।
মন্তব্যসমূহ