পাকিস্তানের পেশোয়ারে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে ১৭ শিশু ও এক শিক্ষকসহ অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) শহরের দির কলোনি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রথমে চারজন এবং পরে ১৭ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে বার্তা সংস্থা এপি ও পাকিস্তানের দুনিয়া নিউজের প্রতিবেদনে এক শিক্ষকসহ মোট ১৮ জনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়।
পেশোয়ারের লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মুহাম্মদ আসিম হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আহতদের চিকিৎসায় হাসপাতালটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন তিনি।
দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান শুরু করে জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২। সংস্থাটির মুখপাত্র বিলাল আহমেদ ফাইজি প্রথম দিকে জানান, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ প্রায় ২০ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তখন হাসপাতালের বরাতে চারজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিলেন তিনি।
এর আগে উদ্ধারকারী সংস্থা জানিয়েছিল, দশজনের বেশি আহত শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে উদ্ধার অভিযান এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন শিশু আটকা থাকার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। তাঁদের কাছে পৌঁছাতে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছিল।
পাকিস্তানে ভবন নির্মাণে নিরাপত্তামান যথাযথভাবে অনুসরণ না করা এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে প্রায়ই ছাদ ও ভবনধসের ঘটনা ঘটে। তবে পেশোয়ারের এই স্কুলের ছাদ ধসে পড়ার নির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
দেশটিতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত জুলাইয়ে উমরকোটের কাছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরের দেয়ালের অংশ ধসে তিন শিশু নিহত হয়। তাদের বয়স ছিল ৩ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। একই মাসে লাহোরের বাগবানপুরায় নির্মাণাধীন একটি বেসরকারি স্কুল ভবনের ছাদ ধসে এক শিশু নিহত ও অন্তত পাঁচজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
এর আগে জুনে লাহোরের কাহনা এলাকায় একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশু প্রাণ হারায়। তার দুই মাসেরও কম সময় আগে ডেরা গাজি খানের একটি বেসরকারি স্কুলে শ্রেণিকক্ষের ছাদ ধসে চার শিশু নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছিল। ওই ঘটনায় ভবন সম্প্রসারণের কাজ চলার সময় ছাদ ধসে পড়ার তথ্য উঠে আসে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরেও এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে ভারি বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে পাকপাত্তানে একটি বাড়ির ছাদ ধসে দুজন নিহত হন। জুনে গুজরাটের লালামুসার খাওয়াসপুর এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে এক শ্রমিক নিহত ও তিনজন আহত হন। একই মাসে লাহোরের নিশতার এলাকায় বাড়ির ছাদ ধসে দুজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
গত আগস্টে টানা তিন দিনের ভারি বৃষ্টির পর ইসলামাবাদের শাহজাদ টাউনে একটি বাড়ির ছাদ ধসে এক দম্পতি নিহত হন। আহত হন তাঁদের মেয়েরাও।
সূত্র: দুনিয়া নিউজ
মন্তব্যসমূহ