ভারতের দিল্লিতে আবারও তিরঙ্গা মিছিলের ডাক দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। আগামী ১৬ অক্টোবর বিকেল ৫টায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা নিয়ে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার, ১৪ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন দীপকে। একই সঙ্গে মিছিলের পর তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
দীপকের এই কর্মসূচির পেছনে রয়েছে সিজেপির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার গ্রেপ্তার। গত ১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর ঘটনায় তাদের আটক করা হয়। পরে আদালত দুজনকে পাঁচ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠান।
দীপকের দাবি, জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়। তিনি বলেন, দেশের প্রতি ভালোবাসা ও পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই তারা এই কর্মসূচি পালন করবেন। দিল্লিতে যেতে না পারলে দেশের বিভিন্ন শহরেও একই ধরনের তিরঙ্গা মিছিল করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নিজের সম্ভাব্য গ্রেপ্তার নিয়েও সরাসরি কথা বলেছেন দীপকে। তার বক্তব্য, মিছিলের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন না।
তবে কর্মসূচি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে সমাবেশের জন্য আয়োজকদের প্রয়োজনীয় অনুমতি নেই। একই সঙ্গে নিউ দিল্লি এলাকায় নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশও কার্যকর রয়েছে।
এর আগে যন্তর মন্তরে সিজেপির নেতাদের প্রবেশ নিয়েও একই ধরনের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও তারা ব্যারিকেড টপকে প্রতিবাদস্থলে প্রবেশ করেন এবং জাতীয় পতাকা ওড়ান। এই ঘটনায় সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে গ্রেপ্তার করে পাঁচ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়।
এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। দুই নেতাকে শুধু জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কারণে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, এমনটি নিশ্চিত নয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ ছিল নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যন্তর মন্তরে প্রবেশ এবং পুলিশের নির্দেশ অমান্য করা। পতাকা ওড়ানো ছিল সেই ঘটনার অংশ।
এখন নজর ১৬ অক্টোবরের কর্মসূচির দিকে। সেন্ট্রাল পার্কে তিরঙ্গা মিছিলের অনুমতি মিলবে কি না, আর অনুমতি না থাকলে পুলিশ কী ব্যবস্থা নেয়, সেটিই হতে যাচ্ছে পরবর্তী বড় প্রশ্ন।
মন্তব্যসমূহ