জয় পায়নি বায়ার্ন মিউনিখ। কিন্তু রাতটা নিজের করে নিয়েছেন হ্যারি কেইন।
নরওয়ের মাঠে ভাইকিংয়ের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র করা ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন ইংলিশ এই স্ট্রাইকার। আর তাতেই চ্যাম্পিয়নস লিগে ৩০ বছর বয়সের পর সবচেয়ে বেশি গোল করা খেলোয়াড়ের তালিকায় লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর রাতে ম্যাচের প্রথমার্ধে ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল বায়ার্ন। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর শুরুটা করেন কেইন।
৫৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন তিনি। ছয় মিনিট পর জশুয়া কিমিখের ক্রস থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন কেইন। পরে লুইস দিয়াজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়েও যায় বায়ার্ন। শেষ মুহূর্তে হারমান হাউগেনের গোলে সমতায় ফেরে ভাইকিং।
তবে বায়ার্নের জয় হাতছাড়া হলেও কেইনের ব্যক্তিগত অর্জন থামেনি।
৩০ বছর বয়সের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে কেইনের গোল এখন ৩৬টি। এই মাইলফলকে পৌঁছাতে তিনি খেলেছেন ৪০ ম্যাচ। একই বয়সের পর মেসির গোল ছিল ৩৫টি, ৪৮ ম্যাচে। অর্থাৎ ম্যাচও কম খেলেই মেসিকে ছাড়িয়ে গেলেন কেইন।
এখন কেইনের সামনে রয়েছেন করিম বেনজেমা, রবার্ট লেভানডফস্কি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৩০ বছর বয়সের পর বেনজেমার গোল ৩৭টি, লেভানডফস্কির ৬৪ এবং রোনালদোর ৬৮টি। ফলে বেনজেমাকে ছাড়াতে কেইনের দরকার আর মাত্র দুই গোল।
শুধু মেসির রেকর্ডই নয়, আরেকটি বড় কীর্তির দিকেও এগিয়ে যাচ্ছেন কেইন।
চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা নয় ম্যাচে গোল করেছেন তিনি। এই কীর্তিতে তিনি এখন রবার্ট লেভানডফস্কি ও রুদ ফন নিস্টলরয়ের পাশে। তবে সবচেয়ে বড় রেকর্ডটি এখনো রোনালদোর দখলে। পর্তুগিজ তারকা টানা ১১ ম্যাচে গোল করেছিলেন। কেইনের সামনে তাই আরও দুই ম্যাচে গোল করে সেই রেকর্ড স্পর্শ করার সুযোগ রয়েছে।
বায়ার্নের জন্য রাতটি অবশ্য এতটা সুখের ছিল না। দুই গোলের ঘাটতি পূরণ করে এগিয়ে যাওয়ার পর মাইকেল অলিসে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এরপর ১০ জনের বায়ার্নকে চাপে ফেলে ৯০ মিনিটে সমতা ফেরায় ভাইকিং।
অর্থাৎ, দলের জয় এল না। কিন্তু কেইনের ব্যক্তিগত দৌড় থামল না।
মেসিকে পেছনে ফেলে এখন তার সামনে বেনজেমা। এরপর লেভানডফস্কি। আর সবশেষে রোনালদোর ৬৮ গোলের মাইলফলক।
৩৩ বছর বয়সেও চ্যাম্পিয়নস লিগে কেইনের এই ধারাবাহিকতা তাই নতুন করে বড় প্রশ্ন তুলছে, শেষ পর্যন্ত কিংবদন্তিদের তালিকায় তিনি কোথায় গিয়ে থামবেন?
মন্তব্যসমূহ