দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা, হুমকি এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি দিয়ে বিকৃত করার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। এতে শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী, আয়োজক ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন অভি রিট আবেদনটি দায়ের করেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাংস্কৃতিক আয়োজন বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা ও শিল্প-সাহিত্যের বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
রিটকারী আইনজীবী সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, শিল্প ও সাহিত্য সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
আবেদনে অভিযোগ করা হয়, ধর্মের অপব্যাখ্যা ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী দেশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের তৎপরতা থেকে আইনসম্মত সাংস্কৃতিক আয়োজনকে সুরক্ষা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
রিটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিল্পকর্মের পাশাপাশি কনসার্ট, সংগীতানুষ্ঠান, লোকসংগীত, বাউল গান, নাটক, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা চাওয়া হয়।
এ ছাড়া নৌকাবাইচ, পহেলা বৈশাখ উদযাপনসহ দেশের ঐতিহ্যবাহী ও শান্তিপূর্ণ উৎসবগুলো যাতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বেআইনি হস্তক্ষেপের কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
বিশেষ করে অনুমোদনহীন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি, সহিংসতা, ভাঙচুর, জবরদস্তি এবং বেআইনি বাধা প্রতিরোধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
আবেদনে শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের পাশাপাশি অনুষ্ঠান আয়োজক এবং দর্শকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
রিটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজকদের হুমকি দেওয়া এবং বাধার মুখে অনুষ্ঠান বাতিল বা পণ্ড হওয়ার ঘটনা ঘটছে।
নোটিশে সংবিধানের ৩১, ৩২, ৩৭ ও ৩৯ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে নাগরিকদের আইনগত সুরক্ষা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং মতপ্রকাশের মৌলিক অধিকারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
রিটকারীর দাবি, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় আইনসম্মত অধিকার নিশ্চিত করতে এবং বেআইনি বাধা প্রতিরোধে সরকারের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
তবে রিট আবেদনের ওপর শুনানির দিন নির্ধারণ কিংবা আদালতের কোনো নির্দেশনা জারির বিষয়ে প্রদত্ত প্রতিবেদনে তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
মন্তব্যসমূহ