ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ট্রাম্পের সংবাদমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক, হোয়াইট হাউসে প্রবেশের নির্দেশ

ট্রাম্পের সংবাদমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক, হোয়াইট হাউসে প্রবেশের নির্দেশ
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার কারণে হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার হারানো তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের আপাতত ফের প্রবেশের সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক টিমোথি কেলি এ বিষয়ে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। ফলে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত CNN, MS NOW ও Politico-র সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ ঠেকাতে পারবে না ট্রাম্প প্রশাসন। 

বিষয়টি শুধু তিনটি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়ে নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন অপছন্দ করার কারণে তাদের প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়ে থাকলে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সুরক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

বিচারক কেলির মতে, ট্রাম্পের নিজের বক্তব্য থেকেই এমন ধারণা পাওয়া যায় যে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন ও মতপ্রকাশের কারণে তাদের হোয়াইট হাউসের প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছিল। এমনটি হয়ে থাকলে সিদ্ধান্তটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। 

এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে ট্রাম্প প্রশাসন CNN, MS NOW ও Politico-র সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের হার্ড-পাস বাতিল করে। ট্রাম্প ওই সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনকে পক্ষপাতদুষ্ট ও মিথ্যা বলে সমালোচনা করেছিলেন। এরপর তিন প্রতিষ্ঠান আদালতের দ্বারস্থ হয়।

মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে বিচারক কেলি সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সাময়িকভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে সেই আদেশের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়। মঙ্গলবারের নতুন আদেশ সেই সাময়িক সুরক্ষাকে আরও দীর্ঘমেয়াদি করে, যতক্ষণ না মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় বা উচ্চতর আদালত আদেশটি পরিবর্তন করে। 

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও নিষেধাজ্ঞার একটি কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। আদালত সেই যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সময় জাতীয় নিরাপত্তা কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল, এমন যথেষ্ট প্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।

আরও একটি বিষয় আদালতের নজরে এসেছে। প্রবেশাধিকার বাতিলের আগে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোকে যথাযথভাবে কারণ জানানো বা নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে বিচারক মনে করেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে কারণ ব্যাখ্যা করা হলেও, সেটি আগের আইনি ঘাটতি পুরোপুরি দূর করেছে কি না, তা নিয়েও আদালত আপত্তি জানিয়েছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল, হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং সাংবাদিকদের প্রবেশ কোনো সাংবিধানিক অধিকার নয়। তারা সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন।

অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমগুলোর আইনজীবীরা দাবি করেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত মূলত তার প্রশাসন সম্পর্কে প্রকাশিত সংবাদে অসন্তুষ্টির প্রতিক্রিয়া। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। 

মামলাটি এখনো শেষ হয়নি। মঙ্গলবারের আদেশে তিন সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার বজায় থাকলেও চূড়ান্ত সাংবিধানিক প্রশ্নের নিষ্পত্তি এখনও বাকি। ট্রাম্প প্রশাসন চাইলে উচ্চতর আদালতে এই আদেশের বিরুদ্ধে যেতে পারে।

অর্থাৎ, আপাতত হোয়াইট হাউসের দরজা তিন সংবাদমাধ্যমের জন্য খোলা থাকছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে প্রবেশাধিকার এবং সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আইনি লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না।

ট্যাগ : ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


ট্রাম্পের সংবাদমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক, হোয়াইট হাউসে প্রবেশের নির্দেশ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার কারণে হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার হারানো তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের আপাতত ফের প্রবেশের সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক টিমোথি কেলি এ বিষয়ে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। ফলে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত CNN, MS NOW ও Politico-র সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ ঠেকাতে পারবে না ট্রাম্প প্রশাসন। 

বিষয়টি শুধু তিনটি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়ে নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন অপছন্দ করার কারণে তাদের প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়ে থাকলে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সুরক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

বিচারক কেলির মতে, ট্রাম্পের নিজের বক্তব্য থেকেই এমন ধারণা পাওয়া যায় যে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন ও মতপ্রকাশের কারণে তাদের হোয়াইট হাউসের প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছিল। এমনটি হয়ে থাকলে সিদ্ধান্তটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। 

এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে ট্রাম্প প্রশাসন CNN, MS NOW ও Politico-র সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের হার্ড-পাস বাতিল করে। ট্রাম্প ওই সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনকে পক্ষপাতদুষ্ট ও মিথ্যা বলে সমালোচনা করেছিলেন। এরপর তিন প্রতিষ্ঠান আদালতের দ্বারস্থ হয়।

মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে বিচারক কেলি সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সাময়িকভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে সেই আদেশের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়। মঙ্গলবারের নতুন আদেশ সেই সাময়িক সুরক্ষাকে আরও দীর্ঘমেয়াদি করে, যতক্ষণ না মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় বা উচ্চতর আদালত আদেশটি পরিবর্তন করে। 

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও নিষেধাজ্ঞার একটি কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। আদালত সেই যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সময় জাতীয় নিরাপত্তা কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল, এমন যথেষ্ট প্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।

আরও একটি বিষয় আদালতের নজরে এসেছে। প্রবেশাধিকার বাতিলের আগে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোকে যথাযথভাবে কারণ জানানো বা নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে বিচারক মনে করেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে কারণ ব্যাখ্যা করা হলেও, সেটি আগের আইনি ঘাটতি পুরোপুরি দূর করেছে কি না, তা নিয়েও আদালত আপত্তি জানিয়েছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল, হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং সাংবাদিকদের প্রবেশ কোনো সাংবিধানিক অধিকার নয়। তারা সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন।

অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমগুলোর আইনজীবীরা দাবি করেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত মূলত তার প্রশাসন সম্পর্কে প্রকাশিত সংবাদে অসন্তুষ্টির প্রতিক্রিয়া। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। 

মামলাটি এখনো শেষ হয়নি। মঙ্গলবারের আদেশে তিন সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার বজায় থাকলেও চূড়ান্ত সাংবিধানিক প্রশ্নের নিষ্পত্তি এখনও বাকি। ট্রাম্প প্রশাসন চাইলে উচ্চতর আদালতে এই আদেশের বিরুদ্ধে যেতে পারে।

অর্থাৎ, আপাতত হোয়াইট হাউসের দরজা তিন সংবাদমাধ্যমের জন্য খোলা থাকছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে প্রবেশাধিকার এবং সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আইনি লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ