কুমিল্লার স্কুলছাত্রী জান্নাতুন তাজমীন হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের দাবি, সুমন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং গাঁজা ও ইয়াবা সেবন করতেন। তার পারিবারিক জীবনেও ছিল নানা জটিলতা।
পুলিশ জানায়, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করছিলেন। পেশায় তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ছিলেন।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদকসেবনের কারণে সুমনের পারিবারিক জীবনে অশান্তি তৈরি হয়েছিল। স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, একপর্যায়ে তার স্ত্রীও তার বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং পরে সন্তান নিয়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন। এরপর অটোরিকশা চালিয়ে বিভিন্ন জায়গায় থাকতেন সুমন।
তাজমীন হত্যাকাণ্ডে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, গত ৭ অক্টোবর রাতে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফেরেন ওই কিশোরী। পদুয়া বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য ৩০০ টাকায় সুমনের অটোরিকশায় ওঠেন তিনি।
পুলিশের দাবি, বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সুমন তাকে নির্জন একটি এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে কিশোরীর সঙ্গে তার সংঘর্ষের একপর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পরদিন লালমাই উপজেলার একটি কৃষিজমি থেকে তাজমীনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি জঙ্গল থেকে তাজমীনের আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
শনিবার, ১০ অক্টোবর কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সুমনের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
তবে মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তাজমীনকে হত্যার আগে যৌন নির্যাতনের অভিযোগের ফরেনসিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার সোয়াব ও ব্যবহৃত পোশাক ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিআইডির ল্যাবে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এদিকে কক্সবাজারে তাজমীনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকেও পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে এখন পর্যন্ত তাজমীন হত্যায় সুমন ছাড়া অন্য কারও সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেনি।
মন্তব্যসমূহ