কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়নের পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের পেছনের একটি চাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে জরুরি পরিস্থিতিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে উড়োজাহাজটি। এ ঘটনায় কোনো যাত্রী বা ক্রু আহত হননি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিমানবন্দর ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) সূত্রে জানা যায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৪৩৬ নম্বর ফ্লাইটটি কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই উড়োজাহাজটির পেছনের একটি চাকা খুলে পড়ে।
উড়োজাহাজটি ছিল ড্যাশ-৮ কিউ ৪০০ মডেলের। এর নিবন্ধন নম্বর এস২-একেই।
চাকা বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করার পর পাইলট ঢাকার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারে জরুরি বার্তা পাঠান। এরপর নিরাপদ অবতরণের প্রস্তুতি শুরু হয়।
অবতরণের আগে উড়োজাহাজটির ওজন কমানোর প্রয়োজন হওয়ায় পাইলট কিছু সময় আকাশে চক্কর দিয়ে জ্বালানি খরচ করেন।
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় উড়োজাহাজটি টাঙ্গাইলের নাগরপুর ও দেলদুয়ার এলাকার আকাশে একাধিকবার চক্কর দেয়। তখন এটি প্রায় ৬ হাজার ১০০ ফুট উচ্চতায় ঘণ্টায় ১৮৮ নট গতিতে উড়ছিল।
অন্যদিকে জরুরি অবতরণের খবর পাওয়ার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে।
সম্ভাব্য দুর্ঘটনা মোকাবিলায় রানওয়ের পাশে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুল্যান্স এবং উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখা হয়। পাশাপাশি অন্য উড়োজাহাজের ওঠানামা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ঢাকা টাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত প্রায় ৩০ মিনিট বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ ছিল। এ সময়ে সব ধরনের উড্ডয়ন ও অবতরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়।
পরবর্তী সময়ে পাইলট দক্ষতার সঙ্গে উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উড়োজাহাজে থাকা সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদ রয়েছেন। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।
তবে কী কারণে উড্ডয়নের পর উড়োজাহাজটির চাকা বিচ্ছিন্ন হয়েছে, সে বিষয়ে সরবরাহকৃত প্রতিবেদনে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
মন্তব্যসমূহ