ঢাকা    শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

২৯ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের পার্শেল ডাকঘরে এসে হয়ে গেল ১৯ কেজি!

২৯ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের পার্শেল ডাকঘরে এসে হয়ে গেল ১৯ কেজি!
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

সৌদি আরব থেকে সরকারি ডাক বিভাগের মাধ্যমে পাঠানো ২৯ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের একটি পার্সেল ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রধান ডাকঘরে পৌঁছানোর পর ওজন পাওয়া গেছে মাত্র ১৯ কেজি ৭০০ গ্রাম। পার্সেল থেকে মূল্যবান প্রায় ১০ কেজি ২০০ গ্রাম মালামাল উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ওজনে কম থাকায় পার্সেল গ্রহণে আপত্তি জানালে পোস্টমাস্টার দুর্ব্যবহার করেছেন এবং পরবর্তীতে অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোন করে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক মো. আতিকুর রহমান।

ভুক্তভোগী আতিকুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পশ্চিম পাইকপাড়ার বাসিন্দা। তিনি জানান, সৌদি আরব থেকে তাঁর আত্মীয় উন্নতমানের খেজুর, লোশন, প্রসাধন সামগ্রী, সাবান, চকলেট ও জুতোভর্তি একটি কার্টন পার্সেল করে পাঠিয়েছিলেন। গত রোববার (৪ অক্টোবর) পার্সেলটি গ্রহণের জন্য ডাকঘর থেকে তাঁকে জানানো হয়। পরদিন সোমবার (৫ অক্টোবর) ডাকঘরে গিয়ে তিনি দেখতে পান কার্টনের দুই পাশ ছেঁড়া। কার্টনের গায়ে প্রেরিত ওজন ২৯.৯০ কেজি উল্লেখ থাকলেও ডাকঘরের ডিজিটাল স্কেলে মেপে পাওয়া যায় ১৯.৭০ কেজি। অর্থাৎ পার্সেল থেকে ১০ কেজি ২০০ গ্রাম মালামাল সরানো হয়েছে।

আতিকুর রহমানের অভিযোগ, ওজনে বড় ধরনের ঘাটতি দেখে প্রতিবাদ জানালে প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার জিনাত রেহানা তাঁকে বলেন, ‘পার্সেল ছেঁড়া অবস্থাতেই এসেছে, আমাদের কিছু করার নেই।’ একপর্যায়ে শুল্ক ও ডাক মাশুল বাবদ নির্ধারিত ৭ হাজার ৯৮৮ টাকা পরিশোধ করে পার্সেলটি নিতে তাঁকে বাধ্য করা হয়। পরে কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বক্সটি খোলা হলে দেখা যায় ভেতরের প্যাকেটগুলো আগেই খোলা হয়েছে এবং উন্নতমানের খেজুর ও প্রসাধন সামগ্রীসহ মূল্যবান সিংহভাগ পণ্যই চুরি হয়ে গেছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, লিখিত অভিযোগ দাখিল করতে গেলে পোস্টমাস্টার গড়িমসি করেন এবং তাঁর সঙ্গে চরম অপেশাদার আচরণ করেন। এমনকি বাসায় ফেরার পর ডাকঘরের কথা বলে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তাঁকে এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে ফোনে হুমকি দেয়। এ ঘটনার প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করে ডাক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন তিনি।

তবে যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার জিনাত রেহানা দাবি করেন, তাঁদের কার্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী পার্সেলের প্যাকেট খোলেননি। চট্টগ্রাম কাস্টমস ও হাব থেকে যেভাবে কার্টনটি এসেছে, তাঁরা সেভাবেই গ্রহণ করেছেন। ওজনে গরমিল থাকার বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ট্যাগ : ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রধান ডাকঘর

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


২৯ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের পার্শেল ডাকঘরে এসে হয়ে গেল ১৯ কেজি!

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সৌদি আরব থেকে সরকারি ডাক বিভাগের মাধ্যমে পাঠানো ২৯ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের একটি পার্সেল ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রধান ডাকঘরে পৌঁছানোর পর ওজন পাওয়া গেছে মাত্র ১৯ কেজি ৭০০ গ্রাম। পার্সেল থেকে মূল্যবান প্রায় ১০ কেজি ২০০ গ্রাম মালামাল উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ওজনে কম থাকায় পার্সেল গ্রহণে আপত্তি জানালে পোস্টমাস্টার দুর্ব্যবহার করেছেন এবং পরবর্তীতে অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোন করে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক মো. আতিকুর রহমান।

ভুক্তভোগী আতিকুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পশ্চিম পাইকপাড়ার বাসিন্দা। তিনি জানান, সৌদি আরব থেকে তাঁর আত্মীয় উন্নতমানের খেজুর, লোশন, প্রসাধন সামগ্রী, সাবান, চকলেট ও জুতোভর্তি একটি কার্টন পার্সেল করে পাঠিয়েছিলেন। গত রোববার (৪ অক্টোবর) পার্সেলটি গ্রহণের জন্য ডাকঘর থেকে তাঁকে জানানো হয়। পরদিন সোমবার (৫ অক্টোবর) ডাকঘরে গিয়ে তিনি দেখতে পান কার্টনের দুই পাশ ছেঁড়া। কার্টনের গায়ে প্রেরিত ওজন ২৯.৯০ কেজি উল্লেখ থাকলেও ডাকঘরের ডিজিটাল স্কেলে মেপে পাওয়া যায় ১৯.৭০ কেজি। অর্থাৎ পার্সেল থেকে ১০ কেজি ২০০ গ্রাম মালামাল সরানো হয়েছে।

আতিকুর রহমানের অভিযোগ, ওজনে বড় ধরনের ঘাটতি দেখে প্রতিবাদ জানালে প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার জিনাত রেহানা তাঁকে বলেন, ‘পার্সেল ছেঁড়া অবস্থাতেই এসেছে, আমাদের কিছু করার নেই।’ একপর্যায়ে শুল্ক ও ডাক মাশুল বাবদ নির্ধারিত ৭ হাজার ৯৮৮ টাকা পরিশোধ করে পার্সেলটি নিতে তাঁকে বাধ্য করা হয়। পরে কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বক্সটি খোলা হলে দেখা যায় ভেতরের প্যাকেটগুলো আগেই খোলা হয়েছে এবং উন্নতমানের খেজুর ও প্রসাধন সামগ্রীসহ মূল্যবান সিংহভাগ পণ্যই চুরি হয়ে গেছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, লিখিত অভিযোগ দাখিল করতে গেলে পোস্টমাস্টার গড়িমসি করেন এবং তাঁর সঙ্গে চরম অপেশাদার আচরণ করেন। এমনকি বাসায় ফেরার পর ডাকঘরের কথা বলে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তাঁকে এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে ফোনে হুমকি দেয়। এ ঘটনার প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করে ডাক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন তিনি।

তবে যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার জিনাত রেহানা দাবি করেন, তাঁদের কার্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী পার্সেলের প্যাকেট খোলেননি। চট্টগ্রাম কাস্টমস ও হাব থেকে যেভাবে কার্টনটি এসেছে, তাঁরা সেভাবেই গ্রহণ করেছেন। ওজনে গরমিল থাকার বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ