রাজধানীর রমনা থানাধীন ইস্কাটন গার্ডেনে দীর্ঘ চার বছর ধরে প্রতি শুক্রবার সকালে পরিচালিত সরকারি উদ্যোগের ‘কৃষকের বাজার’ হঠাৎ উচ্ছেদ করেছে রমনা থানা পুলিশ। কোনো পূর্বনোটিশ ছাড়াই শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে পরিচালিত এ অভিযানে কৃষকদের ওপর বলপ্রয়োগের পাশাপাশি মো. সোহরাব হোসেন নামের এক প্রান্তিক কৃষককে মারধর, জামা ছিঁড়ে ফেলা এবং হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের একটি ট্রাকের সঙ্গে প্রায় আধা ঘণ্টা বেঁধে রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, সিটি কর্পোরেশন ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের বৈধ কাগজপত্র এবং কৃষক কার্ড থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তা তোয়াক্কা করেনি। মূলত নিয়মিত চাঁদা না পেয়েই পুলিশ এই আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে এবং দোকানপ্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার তাজা শাকসবজি নষ্ট করেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় চার বছর আগে সিটি কর্পোরেশন ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সাভারের হেমায়েতপুরের কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি শহরের ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে এই বাজারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছিল। প্রতি শুক্রবার ভোরে ১০টি স্টলে কৃষকেরা নিজেদের ক্ষেতের তাজা শাকসবজি বিক্রি করতেন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মিত এখান থেকে বাজার করতেন। কেনাবেচা শেষে ফুটপাতে জমা আবর্জনা সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সহায়তায় নিজ খরচে পরিষ্কার করতেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী কৃষক মো. সোহরাব হোসেন অভিযোগ করেন, সকালে হঠাৎ পুলিশ এসে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে মালামাল গুটিয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এক ক্রেতাকে কাঁচামরিচ মেপে দেওয়ার কারণে দোকান সরাতে কয়েক মিনিট দেরি হলে এক পুলিশ সদস্য তাঁর জামা টেনে ছিঁড়ে ফেলেন। এরপর তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে পুলিশের গাড়ির সঙ্গে প্রায় ৩০ মিনিট বেঁধে রাখা হয়। কৃষকেরা বৈধ কাগজপত্র দেখালে পুলিশ সদস্য তা কটাক্ষ করে ফিরিয়ে দেন। দোকান উচ্ছেদের পর সবাইকে রমনা থানার ওসির সঙ্গে দেখা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যেখানে ইস্কাটন গার্ডেনের একই সড়কে প্রতিদিন বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অসংখ্য অস্থায়ী ফাস্টফুডের দোকান নির্বিঘ্নে বসে এবং নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে, সেখানে কৃষকদের সপ্তাহে মাত্র একদিন সকালের অনুমোদিত বাজার ভেঙে দেওয়া অত্যন্ত বৈষম্যমূলক ও অমানবিক।
এ বিষয়ে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াসিন মিয়া উচ্ছেদের পক্ষে দাবি করেন, ফুটপাতে বাজার বসার বিষয়টি তাঁদের জানা ছিল না এবং রাস্তা পরিষ্কার ও যানজটমুক্ত রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে পূর্বনোটিশ ছাড়া কেন উচ্ছেদ করা হলো এবং বৈধ কাগজপত্রের পরও কেন কৃষককে হাতকড়া পরিয়ে বেঁধে রাখা হলো—এ বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি; কেবল জানান বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন এবং খোঁজ নিচ্ছেন।
হঠাৎ এই উচ্ছেদে জীবিকা হারানো ও আর্থিক ক্ষতির শিকার সাভারের প্রান্তিক কৃষকেরা মানবিক দিক বিবেচনা করে বাজারটি পুনরায় পরিচালনার সুযোগ দিতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মন্তব্যসমূহ