ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপের অভিযান শুরুর পাশাপাশি প্রয়োজনে আবারও সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা খোলা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি কিংবা ইরানের আশপাশে সামরিক হামলার বিকল্প ওয়াশিংটন এখনো বাতিল করেনি। তাঁর এই বক্তব্যের বিষয়টি একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নিশ্চিত হয়েছে। [BANGVIEWS-POST:4439]সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হেগসেথ বলেন, হরমুজ প্রণালি বা ইরানের আশপাশে প্রয়োজন হলে সামরিক হামলা চালানোর পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের ওপর যে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে, তা তেহরানের পক্ষে দীর্ঘ সময় সহ্য করা কঠিন হবে। হেগসেথের এই বক্তব্য এমন সময় এলো, যখন একই দিনে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক অভিযান ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই উদ্যোগকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর লক্ষ্য ইরানের বৈশ্বিক আর্থিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং দেশটির রাজস্বের উৎসগুলোতে আরও কঠোর চাপ সৃষ্টি করা। নতুন ব্যবস্থার আওতায় প্রায় ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশ ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে এখন পর্যন্ত বড় কোনো চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। [BANGVIEWS-POST:4438]বেসেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের তেলসহ বিভিন্ন খাত থেকে আসা রাজস্বের পথ বন্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে তেহরানকে আরও বিচ্ছিন্ন করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। তবে অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি সামরিক বিকল্পও খোলা রাখার কথা জানানোয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স