হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও পার্শ্ববর্তী উত্তরা এলাকাকে ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ভয়ংকর এক ভাড়াটে ডাকাত চক্র। বিমানবন্দরে আসা প্রবাসী ও তাদের স্বজনদের টার্গেট করে অপরাধ পরিচালনা করছে প্রভাবশালী মাফিয়া চক্র। মাঠে থাকা ভাড়াটে অপরাধীদের পুলিশ মাঝেমধ্যে গ্রেপ্তার করলেও নেপথ্যে কলকাঠি নাড়া মূল পরিকল্পনাকারীরা বারবারই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সংঘবদ্ধ এই চক্রটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে যাত্রীদের পথরোধ করে। লক্ষ্যবস্তু বানানো ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে গাড়ি থেকে নামিয়ে হাতকড়া পরিয়ে নিজস্ব মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। এরপর চোখ-মুখ ও হাত-পা বেঁধে সর্বস্ব লুটে নিয়ে নির্জন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। মালামাল ছিনিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার পরই ভাড়াটে ডাকাতরা নগদ চুক্তির টাকা বুঝে পায়। অপরাধ সংঘটনের পরপরই চক্রের সদস্যরা দ্রুত রাজধানী ছেড়ে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে আত্মগোপন করে।
এমনই এক ঘটনার শিকার হয়েছেন চাঁদপুরের মো. খোরশেদ। দুবাই প্রবাসী ভাইয়ের পাঠানো ১৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান মালামাল নিয়ে বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফেরার পথে শাহবাগ এলাকায় ডিবি পরিচয়ে তাঁকে কালো রঙের একটি গাড়িতে তুলে নেয় অপরাধীরা। পরে প্রায় ৩৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে তাঁকে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরের একটি নির্জন স্থানে ফেলে যায়।
গোয়েন্দারা জানান, এসব অপরাধে পেশাদার ডাকাতদেরই ভাড়ায় খাটানো হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়ার পর দ্রুত তাদের জামিনে মুক্ত করতে এক শ্রেণির আইনজীবীর সঙ্গে আগাম চুক্তি থাকে চক্রের। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ওই আইনজীবীরা ‘বাকিতে’ আইনি সহায়তা দিয়ে দ্রুত জামিনের ব্যবস্থা করেন। ফলে কারাগার থেকে বেরিয়ে তারা পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ইলিয়াস কবির জানান, অপরাধীরা বিমানবন্দরে ঘটনা ঘটিয়ে দ্রুত ঢাকার বাইরে পালিয়ে যায়। নানা কৌশলে তাদের গ্রেপ্তার করা হলেও আইনের ফাঁকফোকর গলে দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে লিপ্ত হয়। তবে গোয়েন্দা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান ও নজরদারির কারণে বর্তমানে এ ধরনের তৎপরতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মন্তব্যসমূহ