বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রস্তুত করা জমি এবার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ওই জমিতে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটিতে আট ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধা যুক্ত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
গতকাল সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ’ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হওয়ায় এর জন্য প্রস্তুত করা বিপুল পরিমাণ জমি এতদিন অব্যবহৃত ছিল। সরকার এখন সেই জমিই নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে।
একনেক সভা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আট ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধাসহ বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মূল প্রকল্প প্রস্তাবে ব্যাটারি সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিল না। সেখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন করে আট ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধা যুক্ত করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এ সুবিধা সংযোজনের কারণে প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়বে।
সংশ্লিষ্ট এলাকায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ইতিমধ্যে প্রায় ৬৮৫ একর জমি ভরাট করেছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের জন্য প্রস্তুত করা এই জমি ব্যবহার করেই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন করে প্রকল্পের জন্য অন্য কোনো জায়গা নির্ধারণের প্রয়োজন হবে না।
তবে রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিবেশগত মূল্যায়ন ও ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।
এদিকে একনেক সভায় মোট ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
সভায় অবকাঠামোর মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, কোনো রাস্তা বা অবকাঠামো নির্মাণের পর তিন বছরের মধ্যে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে তা ঠিকাদারকেই মেরামত করতে হবে। এ জন্য চুক্তিতে প্রয়োজনীয় গ্যারান্টি ও ওয়ারেন্টির শর্ত যুক্ত করা হবে।
এ ছাড়া জনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়া সড়ক প্রকল্পে ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। জমে থাকা বৃষ্টির পানি সড়কের পৃষ্ঠ নষ্ট করে। তাই পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ছাড়া ভবিষ্যতে কোনো সড়ক পরিকল্পনা করা হবে না।
একনেকের অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনে। এতে ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। ফলে প্রকল্পটির মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। পুরো অর্থই সরকারি অর্থায়নে ব্যয় হবে।
এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ হাজার ৭৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার নতুন একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য ২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার আরেকটি প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ