ভেনেজুয়েলার লা গুয়াইরা অঞ্চলের ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের শেষ দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হলে সেখানে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাথায় হেলমেট ও উজ্জ্বল রঙের বিশেষ পোশাক পরা উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনকে বাইরে নিয়ে আসছেন। এ সময় অন্য উদ্ধারকর্মীরা স্ট্রেচার নিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে যান।
লা গুয়াইরা অঞ্চলটি রাজধানী কারাকাসের পাশে অবস্থিত। এক্সে দেওয়া পোস্টে রদ্রিগেজ জানান, কারাবালেদা এলাকায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সংকটময় মুহূর্তে প্রতিটি জীবনই ভেনেজুয়েলার জন্য নতুন আশার প্রতীক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে শনিবার দিনের শুরুতে একই অঞ্চল থেকে ‘ময়সেস’ নামে ১১ বছর বয়সী আরেক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ওই উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করে কলম্বিয়ার জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ইউএনজিআরডি।
সংস্থাটি জানায়, ময়সেসকে জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। টানা ছয় ঘণ্টার অভিযানের পর উদ্ধারকর্মীরা মাটির প্রায় তিন মিটার গভীর থেকে তাকে বের করে আনতে সক্ষম হন।
স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় এক মিনিটের মধ্যে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চল। এতে বহু ভবন ও স্থাপনা ধসে পড়ে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে লা গুয়াইরা অন্যতম।
দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৪৩০ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। নিখোঁজ রয়েছেন ৫০ হাজারের বেশি মানুষ।
ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে স্থানীয় উদ্ধারকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও আন্তর্জাতিক উদ্ধার দল কাজ করছে। তবে সময় যত যাচ্ছে, জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা তত কমে আসছে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধার সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যুৎ, পানি, চিকিৎসা ও আশ্রয় সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে মানবিক পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। বহু মানুষ এখনো খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।
তবুও ধ্বংসস্তূপ থেকে একের পর এক জীবিত উদ্ধারের ঘটনা উদ্ধারকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে নতুন করে আশা জাগাচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ