ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: রাজনৈতিক প্রশ্রয় বন্ধের দাবি টিআইবির

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: রাজনৈতিক প্রশ্রয় বন্ধের দাবি টিআইবির
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় শুধু তদন্ত কমিটি গঠন বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়াকে যথেষ্ট মনে করছে না ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। রাজনৈতিকভাবে সহিংসতার প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করার পাশাপাশি দল ও অঙ্গসংগঠনের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ অবস্থান তুলে ধরে টিআইবি। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এ ঘটনায় রাজনৈতিক দায় এড়িয়ে যেতে পারে না। হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দলীয় সিদ্ধান্ত ও আচরণে গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তার মতে, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সংগঠনের ভেতরে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হলে জনগণের আস্থা অর্জন করা সম্ভব হবে না। দলীয় নেতাকর্মীদের আচরণের কারণে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ক্রমেই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা ঠেকাতে প্রশাসনের ব্যর্থতাকে বৃহত্তর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার অংশ হিসেবে দেখছে টিআইবি। উপাচার্য ও শিক্ষকদের পদত্যাগের দাবি, ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তার নিয়ে সহিংসতা, দখলবাজি এবং পেশিশক্তির প্রদর্শনের মতো ঘটনাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃত্বের দুর্বলতা সামনে এনেছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

টিআইবি বলেছে, শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার চাওয়া ও শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানোর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। উপাচার্য বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিয়মতান্ত্রিক জবাবদিহির ব্যবস্থা করতে হবে। তবে দাবি আদায়ের জন্য দলীয় প্রভাব, ভয়ভীতি কিংবা বলপ্রয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়।

ড. ইফতেখারুজ্জামানের মতে, রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে শিক্ষার্থীদের কোনো অংশ এতটা ক্ষমতাধর হয়ে উঠবে যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়িত্ব পালন করতে পারবে না এবং পুলিশ আইন প্রয়োগে ব্যর্থ হবে, এমন পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়কে আইন ও বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হতে হবে, কোনো দলীয় শক্তির প্রভাবে নয়। 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকার ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করে দায় নির্ধারণেরও দাবি জানিয়েছে টিআইবি। রাজনৈতিক পরিচয় যাতে অপরাধে জড়িতদের সুরক্ষার মাধ্যম না হয়, সেটি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং মতিহার থানায় একটি মামলা করা হয়।

ট্যাগ : টিআইবি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: রাজনৈতিক প্রশ্রয় বন্ধের দাবি টিআইবির

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় শুধু তদন্ত কমিটি গঠন বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়াকে যথেষ্ট মনে করছে না ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। রাজনৈতিকভাবে সহিংসতার প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করার পাশাপাশি দল ও অঙ্গসংগঠনের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ অবস্থান তুলে ধরে টিআইবি। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এ ঘটনায় রাজনৈতিক দায় এড়িয়ে যেতে পারে না। হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দলীয় সিদ্ধান্ত ও আচরণে গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তার মতে, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সংগঠনের ভেতরে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হলে জনগণের আস্থা অর্জন করা সম্ভব হবে না। দলীয় নেতাকর্মীদের আচরণের কারণে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ক্রমেই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা ঠেকাতে প্রশাসনের ব্যর্থতাকে বৃহত্তর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার অংশ হিসেবে দেখছে টিআইবি। উপাচার্য ও শিক্ষকদের পদত্যাগের দাবি, ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তার নিয়ে সহিংসতা, দখলবাজি এবং পেশিশক্তির প্রদর্শনের মতো ঘটনাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃত্বের দুর্বলতা সামনে এনেছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

টিআইবি বলেছে, শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার চাওয়া ও শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানোর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। উপাচার্য বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিয়মতান্ত্রিক জবাবদিহির ব্যবস্থা করতে হবে। তবে দাবি আদায়ের জন্য দলীয় প্রভাব, ভয়ভীতি কিংবা বলপ্রয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়।

ড. ইফতেখারুজ্জামানের মতে, রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে শিক্ষার্থীদের কোনো অংশ এতটা ক্ষমতাধর হয়ে উঠবে যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়িত্ব পালন করতে পারবে না এবং পুলিশ আইন প্রয়োগে ব্যর্থ হবে, এমন পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়কে আইন ও বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হতে হবে, কোনো দলীয় শক্তির প্রভাবে নয়। 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকার ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করে দায় নির্ধারণেরও দাবি জানিয়েছে টিআইবি। রাজনৈতিক পরিচয় যাতে অপরাধে জড়িতদের সুরক্ষার মাধ্যম না হয়, সেটি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং মতিহার থানায় একটি মামলা করা হয়।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ