দেশের উদ্ভাবনী তরুণদের ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে ব্যবসার প্রসার ঘটাতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। মির্জা ফখরুল ২০২৬ সালের ২১ আগস্ট বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। BSS
সোমবার (৫ অক্টোবর) বঙ্গভবনে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এ সময় ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রপতি বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থা দ্রুত গড়ে তুলতে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উদীয়মান আধুনিক প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় তরুণ উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে ব্যাংক সুদের হার কমানোর ওপর জোর দিয়ে রাষ্ট্রপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই উদ্যোগের ফলে রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলের মতো পিছিয়ে থাকা এলাকায় শিল্পায়ন ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি নতুন কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল।
সাক্ষাতে ডিসিসিআই প্রতিনিধিরা ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করার কথা জানান। সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করলে আগামী দুই বছরের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারা। নিজেদের বিভিন্ন দাবি, সমস্যা ও সম্ভাবনার কথাও রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন প্রতিনিধিরা।
এ সময় রাষ্ট্রপতি দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়েও কথা বলেন। তার মতে, দেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য বারবার সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ করলেও গণতন্ত্র অর্জনের পর তাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিক সুবিধার অপব্যবহারকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি আরও অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে ‘লুটপাটতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার কারণে দেশ পিছিয়ে পড়েছিল এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। ব্যক্তিগত লোভের কারণে ব্যাংকিং খাত ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের আসন্ন ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিতে রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।
ব্যবসায়ীদের সামাজিক উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমেও আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। বৈঠকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবসহ ডিসিসিআই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ