ট্রাম্প কি চীনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন?
বেইজিংয়ে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ গত রোববার জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র কিনতে আগ্রহী কিনা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ পায়।পারডিউ ফক্স নিউজকে জানান, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে। এক পর্যায়ে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট সিকে আসলেই জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি কি কিছু অস্ত্র কিনতে চান।’তাইওয়ানের জন্য অনুমোদিত রেকর্ড ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ নিয়ে দেরি প্রসঙ্গে পারডিউ বলেন, ট্রাম্প এই অনুমোদন বিলম্বিত করেছেন বলে তিনি নিশ্চিত নন। তবে ট্রাম্প এই প্রস্তাব কখন দিয়েছেন তা স্পষ্ট করেননি।ট্রাম্প প্রশাসন চীনের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশেষ করে বেইজিংয়ের ইরানকে সহায়তা এবং সামরিক কাজে ব্যবহৃত দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি দেওয়ার বিষয়ে। একই সঙ্গে চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখেন।আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের এশিয়া নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জ্যাক কুপার বলেন, ‘ট্রাম্পের চীনকে অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাবটি অস্বাভাবিক। সি চিনপিং হয়তো সব ধরনের অস্ত্র চেয়েছিলেন। একই সময়ে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি নিয়ে ট্রাম্প অনীহা দেখাচ্ছেন, যা বিস্ময়কর।’শীর্ষ বৈঠকের আগে তাইওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা উদ্বিগ্ন ছিলেন যে, ট্রাম্প সি চিনপিংয়ের কাছে বিনিময়ে তাইওয়ানের প্রতি সমর্থন কমিয়ে দিতে পারেন। মে মাসে বেইজিংয়ে বৈঠকের পর ট্রাম্প তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রিকে ‘ভালো দর-কষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।হোয়াইট হাউস পারডিউয়ের মন্তব্যের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে হোয়াইট হাউসের সাবেক উপদেষ্টা ডেনিস ওয়াইল্ডার বলেন, ট্রাম্প হয়তো সিকেও মার্কিন অস্ত্রের শ্রেষ্ঠত্বের কথা মনে করাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এটি বিপজ্জনক। তিনি যুক্তি দেন, এমন রসিকতাও তাইওয়ান ও পূর্ব এশিয়ায় সামরিক হুমকি সম্পর্কে ট্রাম্পের ভাবনা নিয়ে সন্দেহ বাড়ায়।পারডিউ বলেন, তিনি যে সবাইকে দেখেছেন, তাদের মধ্যে ট্রাম্প তাইওয়ানের প্রতি সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। চীনকে সন্তুষ্ট করতে ট্রাম্প অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ আটকে রেখেছেন এমন ধারণা তিনি অস্বীকার করেন।চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানায়, সি চিনপিং বলেছেন, বেইজিং আশা করে যুক্তরাষ্ট্র ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতার’ বিরোধিতা করার অবস্থান বজায় রাখবে।পারডিউ বলেন, তাইওয়ান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ‘এক চীন’ নীতি। যুক্তরাষ্ট্র বেইজিংকে চীনের সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তবে তাইওয়ানের ওপর চীনের সার্বভৌমত্ব দাবি স্বীকার করে না। ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ মেয়াদী অনুমোদনের বিষয়ে তিনি মন্তব্য দেননি, শুধু বলেন বিষয়টি ‘চলমান’।পারডিউ উল্লেখ করেন, গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প তাইওয়ানের কাছে ১১.১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছেন। ইউএস-তাইওয়ান বিজনেস কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চার বছরের ৮.৪ বিলিয়ন ডলারের অনুমোদনের থেকে ট্রাম্পের অনুমোদিত পরিমাণ বেশি। ট্রাম্প ১৯৭৯ সালের পর যেকোনো মার্কিন নেতার তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি অস্ত্র অনুমোদন দিয়েছেন।যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের কার্যত রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ইউই রোববার সিবিএস নিউজকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী। আমরা আশা করি যত দ্রুত সম্ভব ওই অস্ত্র প্যাকেজের অনুমোদন পাব।’