ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০২০ সালে ৮.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ২০২৫ সালে এই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯.২ বিলিয়ন ডলারে, যা প্রায় ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলের এই বর্ধিত অস্ত্র রপ্তানির প্রধান কারণ হিসেবে আব্রাহাম একর্ডস চুক্তি সই করা কয়েকটি আরব দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), বাহরাইন এবং মরক্কো উল্লেখযোগ্য। ২০২০ সালে এই দেশগুলোতে ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি ছিল খুবই কম বা ছিল শূন্যের কোঠায়। তবে পরবর্তী বছরগুলোতে তা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, ২০২২ সালে ২৪ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়।
বিশেষ করে ইউএই সর্বোচ্চ অস্ত্র ক্রেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তারা ইসরায়েল থেকে স্পাইডার-এমআর ও বারাক এলআরএডি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, এয়ারবোর্ন ডিফেন্স ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম, ডিরেক্ট ইনফ্রারেড কাউন্টারমেজার্স (ডিআইআরসিএম) ও সোনাক্স সিস্টেমের মতো আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ক্রয় করেছে।
এছাড়াও, ইউএই-এর বিভিন্ন সংস্থা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে এবং ২০২৬ সালের মে মাসে দুই দেশ যৌথভাবে নতুন আধুনিক অস্ত্র ও ড্রোন প্রতিরোধী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির লক্ষ্যে একটি বিশেষ তহবিল গঠন করেছে।
অপরদিকে, মরক্কো ও বাহরাইনও ইসরায়েল থেকে ক্ষেপণাস্ত্র এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ক্রয় করলেও তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা খাতের অবকাঠামো ও অর্থায়নের সীমাবদ্ধতার কারণে তারা ইউএই-এর মতো বড় প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগী হিসেবে পরিণত হতে পারেনি।
মন্তব্যসমূহ