জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তার মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর নতুন সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশা আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এসব কথা বলেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, সার্বিক বিবেচনায় এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ফলপ্রসূ হয়েছে। বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সভা ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার বিষয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমর্থন পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি সাতটি উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেন তিনি। এ ছাড়া ১১টি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।
অধিবেশনের ফাঁকে তুরস্ক ও ইরানের প্রেসিডেন্ট, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গেও তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়।
এ ছাড়া সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
জাতিসংঘের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব, জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার এবং মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত রয়েছেন। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্টসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তিনি সাক্ষাৎ করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী, বোয়িং গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী এবং ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
হুমায়ুন কবিরের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান ও নতুন সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রও তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান চলতি বছরের ২ জুন নির্বাচিত হন।
মন্তব্যসমূহ