ঢাকা    শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

১২৫ দিন পর হরমুজ পেরিয়ে এক লাখ টন তেল নিয়ে দেশের পথে ‘নর্ডিক পোলাক্স’

১২৫ দিন পর হরমুজ পেরিয়ে এক লাখ টন তেল নিয়ে দেশের পথে ‘নর্ডিক পোলাক্স’
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের জেরে বন্ধ হয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালিতে ১২৫ দিন আটকে থাকার পর অবশেষে নিরাপদে প্রণালি অতিক্রম করেছে এক লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ ‘নর্ডিক পোলাক্স’। বর্তমানে জাহাজটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৬ জুলাই এটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে।

সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে গত ১ মার্চ এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল বোঝাই করার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাহাজটি সেখানে আটকা পড়ে। পরে বিধিনিষেধ আংশিক শিথিল হলে ২৪ জুন নিরাপদে প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়।

জাহাজে থাকা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) পরিশোধনের মাধ্যমে সারা দেশে সরবরাহ করা হবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পক্ষে তেল পরিবহনের কাজটি তদারকি করছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। এ উদ্দেশ্যে বিদেশি একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ভাড়ায় নেওয়া হয়েছে ‘নর্ডিক পোলাক্স’ জাহাজটি।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পরপরই সরকার বিকল্প রুটে জ্বালানি তেল আমদানি শুরু করে। সৌদি আরবের ইয়ানবু এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত জ্বালানি তেল আনার মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘ সময় জাহাজটি আটকে থাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডেমারেজ বা অতিরিক্ত খরচ সৃষ্টি হলেও চুক্তি অনুযায়ী সেই ব্যয় বিপিসি বা বিএসসিকে বহন করতে হবে না। পুরো ডেমারেজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানই পরিশোধ করবে।

সরকারি পর্যায়ের (জিটুজি) চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ প্রতিবছর সৌদি আরবের আরামকো এবং আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (এডনক) থেকে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে। সাধারণত এসব তেল হরমুজ প্রণালি হয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছায়।

চলতি বছরের শুরুতে কৌশলগত এই নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইস্টার্ন রিফাইনারিতে কাঁচামালের সংকট দেখা দেয়। এর ফলে গত ১২ এপ্রিল অপরিশোধিত তেলের অভাবে শোধনাগারটির উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং দেশের জ্বালানি সরবরাহে প্রায় ২০ শতাংশ ঘাটতি সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বেশি দামে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির পাশাপাশি ইয়ানবু ও ফুজাইরা বন্দরকে বিকল্প রুট হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে এসব বিকল্প রুট দিয়েই জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রয়েছে। ফলে ইস্টার্ন রিফাইনারির কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে।

ট্যাগ : সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


১২৫ দিন পর হরমুজ পেরিয়ে এক লাখ টন তেল নিয়ে দেশের পথে ‘নর্ডিক পোলাক্স’

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬

featured Image

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের জেরে বন্ধ হয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালিতে ১২৫ দিন আটকে থাকার পর অবশেষে নিরাপদে প্রণালি অতিক্রম করেছে এক লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ ‘নর্ডিক পোলাক্স’। বর্তমানে জাহাজটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৬ জুলাই এটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে।

সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে গত ১ মার্চ এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল বোঝাই করার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাহাজটি সেখানে আটকা পড়ে। পরে বিধিনিষেধ আংশিক শিথিল হলে ২৪ জুন নিরাপদে প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়।

জাহাজে থাকা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) পরিশোধনের মাধ্যমে সারা দেশে সরবরাহ করা হবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পক্ষে তেল পরিবহনের কাজটি তদারকি করছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। এ উদ্দেশ্যে বিদেশি একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ভাড়ায় নেওয়া হয়েছে ‘নর্ডিক পোলাক্স’ জাহাজটি।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পরপরই সরকার বিকল্প রুটে জ্বালানি তেল আমদানি শুরু করে। সৌদি আরবের ইয়ানবু এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত জ্বালানি তেল আনার মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘ সময় জাহাজটি আটকে থাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডেমারেজ বা অতিরিক্ত খরচ সৃষ্টি হলেও চুক্তি অনুযায়ী সেই ব্যয় বিপিসি বা বিএসসিকে বহন করতে হবে না। পুরো ডেমারেজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানই পরিশোধ করবে।

সরকারি পর্যায়ের (জিটুজি) চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ প্রতিবছর সৌদি আরবের আরামকো এবং আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (এডনক) থেকে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে। সাধারণত এসব তেল হরমুজ প্রণালি হয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছায়।

চলতি বছরের শুরুতে কৌশলগত এই নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইস্টার্ন রিফাইনারিতে কাঁচামালের সংকট দেখা দেয়। এর ফলে গত ১২ এপ্রিল অপরিশোধিত তেলের অভাবে শোধনাগারটির উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং দেশের জ্বালানি সরবরাহে প্রায় ২০ শতাংশ ঘাটতি সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বেশি দামে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির পাশাপাশি ইয়ানবু ও ফুজাইরা বন্দরকে বিকল্প রুট হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে এসব বিকল্প রুট দিয়েই জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রয়েছে। ফলে ইস্টার্ন রিফাইনারির কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ