ঢাকা    শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

‘ইউজড স্পেয়ার পার্টস’ ঘোষণায় ১২ কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ির যন্ত্রাংশ জব্দ

‘ইউজড স্পেয়ার পার্টস’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে জাপান থেকে আমদানি করা প্রায় ১২ কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল গাড়ি ও যন্ত্রাংশ নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খালাসের চেষ্টা ঠেকিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে অভিযান চালিয়ে এসব গাড়ির বিচ্ছিন্ন যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক সাগর সেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।কাস্টমস সূত্র জানায়, জাপান থেকে ৪০ ফুটের একটি কনটেইনারে ১৬৭ প্যাকেজে মোট ৮ হাজার ১৮ কেজি পণ্য আনা হয়। আমদানির সময় পণ্যগুলো ‘পুরোনো গাড়ির যন্ত্রাংশ ও গিয়ারবক্সসহ ব্যবহৃত পেট্রল ইঞ্জিন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।[BANGVIEWS-POST:4969]কনটেইনারে তিন স্তরে পণ্য সাজানো ছিল। সামনের অংশে সাধারণ গাড়ির যন্ত্রাংশ রাখা হলেও সেগুলোর আড়ালে লেক্সাস ও বিএমডব্লিউর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে লেক্সাস এলএক্স ৬০০, লেক্সাস এসসি ৪৩০ ও বিএমডব্লিউ এম৫-এর বিভিন্ন অংশ রয়েছে। এছাড়া হোন্ডা বি১৮সি টাইপ-আর ইঞ্জিন, ফ্রন্ট হাফ বা হাফ-কাট, টায়ারসহ বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়েছে।জানা গেছে, চালানটি গত ১০ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছালেও প্রায় এক মাসেও এর বিপরীতে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয়নি। পরে পণ্য নিলামের মাধ্যমে খালাসের চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দারা চালানটি পরীক্ষা করেন।কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক সাগর সেন জানান, জব্দ করা যন্ত্রাংশগুলো পুনরায় সংযোজন করে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি তৈরি করা সম্ভব কি না, তা বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। গাড়ির মডেলভেদে শুল্ক-কর ১০৩ থেকে ৬২১ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। চালানটি খালাস করতে চাইলে বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে নির্ধারিত শুল্ক-কর ও জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।প্রাথমিক হিসাবে কাস্টমস জানিয়েছে, লেক্সাস এলএক্স ৬০০-এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৬ থেকে ৯ কোটি টাকা, লেক্সাস এসসি ৪৩০-এর ৫০ থেকে ৯০ লাখ টাকা এবং বিএমডব্লিউ এম৫-এর ৩ থেকে ৮ কোটি টাকা হতে পারে। তবে যন্ত্রাংশগুলোর প্রকৃত মূল্য ও শুল্কযোগ্যতা যাচাই শেষে চূড়ান্ত হিসাব নির্ধারণ করা হবে।কাস্টমস সূত্র আরও জানায়, ঢাকার ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেস চালানটি জাপান থেকে আমদানি করেছে। এর আগে মোংলা বন্দর থেকেও একই আমদানিকারকের মিথ্যা ঘোষণায় আনা বিলাসবহুল গাড়ির চালান আটক করা হয়েছিল।[BANGVIEWS-POST:4967]গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার চালানটি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। পরে চালান পরীক্ষা করে বিলাসবহুল বিভিন্ন গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।এদিকে চালানটির আমদানি মূল্য, অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি, বাণিজ্যিক নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন যাচাই করা হচ্ছে। এর সঙ্গে অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেন বা মানি লন্ডারিংয়ের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।বর্তমানে চালানটির প্রকৃত পণ্য, মূল্য ও শুল্ক-কর নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত শেষে রাজস্ব ফাঁকি বা অন্য কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘ইউজড স্পেয়ার পার্টস’ ঘোষণায় ১২ কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ির যন্ত্রাংশ জব্দ