কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে বসাকে কেন্দ্র করে সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধের জেরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের শিক্ষার্থী এবং শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে প্রকৌশল অনুষদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এবং শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের সামনেও কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে বসার বিষয় নিয়ে সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে বিষয়টি প্রক্টর অফিসে নেওয়া হলে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয় এবং তারা সেখান থেকে চলে যান।
তবে কিছু সময় পর পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বাসায় ফেরার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে আইসিটি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
এ সময় আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম মজুমদার গুরুতর আহত হন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তার হাতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং হাত ভেঙে যাওয়ার কথাও জানা গেছে।
এ ঘটনায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পরবর্তী সময়ে কয়েকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে আইসিটি বিভাগের দিকে যান বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই সময় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভাগ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বিভাগের প্রধান ফটকে তালা দেওয়া হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা তালা খুলে দিলে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বাইরে বেরিয়ে অপর পক্ষকে ধাওয়া করেন।
ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে তারা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের সামনে পৌঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে আবার সংঘর্ষ বাধে। সেখানে কয়েক দফা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন। আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আহতদের কয়েকজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, ‘ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে লাইব্রেরিতে। আমরা শুরুতেই বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছিলাম। এর পর কীভাবে আবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। আমরা খোঁজ নিয়ে পরবর্তীতে জানাব। তাৎক্ষণিকভাবে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।’
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মন্তব্যসমূহ