চব্বিশের পরাজিত শক্তিকে কোনো ধরনের আশকারা বা প্রশ্রয় না দিতে বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন এবং আগের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী। পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল এ বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, ‘চব্বিশের গণআন্দোলনে যে পরিবর্তন এসেছে, তা নস্যাৎ করার কোনো অপচেষ্টাই সফল হতে দেওয়া যাবে না। গণতন্ত্রকামী মানুষের ওপর গুলি করা ফ্যাসিস্টদের কোনোভাবে রাজপথে আসতে দেওয়া হবে না।’
বিরোধী দলগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিরোধী দলের কোনো কর্মসূচিতে সরকার কোথাও বাধা দেয়নি। তিনি প্রশ্ন করেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গাড়িতে আগুন লাগাচ্ছে কারা এবং সিএনজি ও ট্রেনে আগুন লাগাচ্ছে কারা। এসব কর্মকাণ্ডকে তিনি পরিকল্পিতভাবে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
রিজভী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণতন্ত্র বিস্তারের কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ বিরোধী দল আত্মদানের দৃষ্টান্ত, যে মহান আত্মদানের দৃষ্টান্ত ৫ আগস্টের বিপ্লবের বিজয়, সেই বিজয়কে পণ্ড করার চেষ্টা করছেন। আপনারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, সেই কথার মধ্যে গিয়ে আজকে পতিত ফ্যাসিস্টরা সাহস পাচ্ছে, উৎসাহিত হচ্ছে।’
সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশকে শান্তির বার্তা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের মধ্যে নিয়ে যেতে কাজ করছেন। তার অভিযোগ, বিরোধী দল বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য ও অপপ্রচার চালালেও সরকার গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির কাজ করছে। তিনি বলেন, বিরোধী দল লংমার্চ করছে, বিক্ষোভ সমাবেশ করছে এবং মন্ত্রীকে হুংকার দিচ্ছে।
দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষতিগ্রস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও অধিকারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে আর দুর্বল হতে দেওয়া যাবে না। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করাই রাজনৈতিক দলগুলোর মূল দায়িত্ব।
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশ ও মিছিলে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন, ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানসহ তিন সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টার প্রতিবাদে নয়াপল্টন এলাকা থেকে একটি মিছিল বের করা হয়।
মন্তব্যসমূহ