ঢাকা    শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

৯০ দশকের প্রেম ফিরিয়ে আনছে ‘মিশন ডিডিএলজে’

 ৯০ দশকের প্রেম ফিরিয়ে আনছে ‘মিশন ডিডিএলজে’
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

আধুনিক সময়ের বদলে যাওয়া সম্পর্কের সমীকরণের মধ্যে পুরোনো দিনের প্রেমের আবেগ, অপেক্ষা ও আন্তরিকতাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ওয়েব ফিল্ম ‘মিশন ডিডিএলজে’। ৯০ দশকের রোমান্টিক সিনেমার নস্টালজিয়া এবং বর্তমান সময়ের সম্পর্কের বাস্তবতাকে একসঙ্গে মিলিয়ে নির্মিত আইস্ক্রিন অরিজিনাল রোম্যান্টিক-কমেডি ওয়েব ফিল্মটি পরিচালনা করেছেন আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক। প্রেম, হাস্যরস, বন্ধুত্ব, পারিবারিক সম্পর্ক ও আবেগের সমন্বয়ে নির্মিত এই ওয়েব ফিল্মটি ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টা থেকে আইস্ক্রিনে স্ক্রিনিং হচ্ছে।

মুক্তির পর থেকেই ‘মিশন ডিডিএলজে’ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে সাড়া পড়েছে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টরা। যারা ওয়েব ফিল্মটি দেখেছেন, তাদের অনেকে গল্পের নস্টালজিক আবহ, ৯০ দশকের প্রেমের অনুভূতি, হাস্যরস এবং পারিবারিক আবেগের প্রশংসা করছেন। বর্তমান সময়ের গল্পের সঙ্গে পুরোনো দিনের ভালোবাসার আন্তরিকতাকে মিলিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও দর্শকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সাদ নাওভী ও লাবণ্য চৌধুরীর অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রিও প্রশংসা পাচ্ছে। মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শকদের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ায় নির্মাতা ও কলাকুশলীদের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ওয়েব ফিল্মটির কেন্দ্রীয় দুই চরিত্র ধ্রুব ও দিয়ায় অভিনয় করেছেন সাদ নাওভী ও লাবণ্য চৌধুরী। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরমান বিন মাহমুদ, সাদিয়া ইসলাম জুই, শওকত শোভন, মাসুদ মহিউদ্দিন, শেখ স্বপ্না, শারমিন সুলতানা শর্মী, নিয়ন আহসান ও নির্মাতা আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক। গল্প লিখেছেন আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক ও এম কে এ তুষার। চিত্রনাট্য করেছেন আজহারুল ইসলাম অভি ও আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক।

‘মিশন ডিডিএলজে’র গল্প এগিয়েছে ধ্রুব ও দিয়ার প্রেমকে ঘিরে। বর্তমান সময়ের এই জুটি ৯০ দশকের প্রেমের গল্পের আবেগ, মূল্যবোধ ও আন্তরিকতায় অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের সম্পর্ককেও সেই আদলে গড়ে তুলতে চায়। কিন্তু পুরোনো দিনের প্রেমের ধারণাকে বর্তমান বাস্তবতায় ধরে রাখা সহজ নয়। ফলে তাদের পথচলায় আসে নানা বাধা, সম্পর্কের টানাপোড়েন, বন্ধুত্ব, পারিবারিক জটিলতা ও হাস্যরসাত্মক নানা ঘটনা। গল্পের বিভিন্ন বাঁকে থাকা টুইস্টের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় ওয়েব ফিল্মটির কাহিনি।

ধ্রুব চরিত্রে অভিনয় করা সাদ নাওভীর কাছে ‘মিশন ডিডিএলজে’ শুধু রোম্যান্টিক গল্প নয়, বরং কমেডি, প্রেম ও পারিবারিক আবহের সমন্বয়ে তৈরি একটি ভিন্নধর্মী কাজ। তিনি বলেন, ‘কমেডি, রোম্যান্স ও ফ্যামিলি ড্রামার একটি দারুণ কম্বিনেশন ‘মিশন ডিডিএলজে’। এটি একটি ফিল-গুড গল্প। ক্লাসিক ধাঁচের একটি চরিত্রকে নিজের মতো করে আয়ত্ত করতে পারাটা দারুণ এক অনুভূতি। চরিত্রটির সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা বিশেষ ভালো লেগেছে।’

দিয়া চরিত্রে অভিনয় করা লাবণ্য চৌধুরী বলেন, ৯০ দশকের প্রেমের গল্প তার ব্যক্তিগতভাবেই পছন্দের। তাই চরিত্রটি ধারণ করতে আলাদা করে খুব বেশি প্রস্তুতি নিতে হয়নি। তবে কিছুটা রিহার্সাল করতে হয়েছে। সাদ নাওভীর সঙ্গে প্রথমবার জুটি বেঁধে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও সন্তুষ্ট এই অভিনেত্রী। তার বিশ্বাস, বর্তমান প্রজন্মের দর্শকরাও গল্পটির মধ্যে নিজেদের সম্পর্কের আবেগ খুঁজে পাবেন।

নির্মাতা আসিফ জাহাঙ্গীর অর্কের নিজের শৈশব-কৈশোরের নস্টালজিয়াও জড়িয়ে আছে গল্পটির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি যেহেতু ৮০ দশকে জন্ম এবং ৯০ দশকের রোমান্টিক গল্পগুলো দেখে বড় হয়েছি, আমার চেষ্টা ছিল সেই সময়ের ক্লাসিক লাভ স্টোরির মূল্যবোধ ও অনুভূতিকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরা। গল্প ও চরিত্রগুলো আধুনিক, কিন্তু তারা ৯০ দশকের প্রেমের গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের ভালোবাসার গল্প গড়ে তুলতে চায়। তাই এটি একদিকে আধুনিক, অন্যদিকে নস্টালজিক।’

‘ডিডিএলজে’ নামটির মধ্যেও রয়েছে গল্পের বিশেষ ইঙ্গিত। নির্মাতা জানিয়েছেন, DDLJ-এর পূর্ণরূপ ‘Dhrubo-Diya’s Love Journey’। তবে নামের ভেতরে থাকা লুকানো অর্থ সম্পর্কে আগেভাগে কিছু বলতে চাননি তিনি। তার ভাষ্য, এতে ক্লাসিক রোম্যান্টিক সিনেমার আবহের পাশাপাশি এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা বিভিন্ন প্রজন্মের দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করবে।

নির্মাতা আরও জানান, তিনি মূলত গল্পের জন্য নতুন একটি জুটি খুঁজছিলেন। সাদ নাওভী ও লাবণ্য চৌধুরীকে পাওয়ার পর সেই জায়গাটি পূরণ হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, ওয়েব ফিল্মটির অন্যতম আকর্ষণ নাওভী-লাবণ্যের অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি।

প্রচলিত প্রেমের গল্পের বাইরে গিয়ে পুরোনো দিনের আবেগকে আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা হয়েছে ‘মিশন ডিডিএলজে’। ওয়েব ফিল্মটিতে রয়েছে দুটি গান। এর একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের আবহে এবং অন্যটি রোমান্টিক ঘরানার।

শুটিংয়ের সময়ও নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে টিমকে। ঢাকা ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন লোকেশনে প্রচণ্ড গরম ও হিট ওয়েভের মধ্যে শুটিং করতে হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও পুরো টিমের আন্তরিকতা ও পরিশ্রমে কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাদ নাওভী ও লাবণ্য চৌধুরী।

নির্বাহী প্রযোজক আশেক হোসেন তন্ময় বলেন, ‘এই প্রজেক্টে কাজ করতে গিয়ে আমরা সবাই যেন একটি পরিবারের মতো হয়ে গিয়েছিলাম। টিমের প্রত্যেকের কাজে ছিল আন্তরিকতা, সহযোগিতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া। সেই বন্ধনই পুরো টিমকে একসঙ্গে কাজ করার শক্তি জুগিয়েছে।’

এদিকে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মিশন ডিডিএলজে’র প্রিমিয়ার। এতে ওয়েব ফিল্মটির কলাকুশলীদের পাশাপাশি শোবিজ অঙ্গনের অনেক তারকা উপস্থিত ছিলেন। প্রিমিয়ারে উপস্থিত ছিলেন আশনা হাবিব ভাবনা, মন্দিরা চক্রবর্তী, আজিজুল হাকিম, নাজমি জান্নাত, ইমতিয়াজ বর্ষণসহ অনেকে। অনুষ্ঠানে এসআরকে ইউনিভার্স বাংলাদেশ ফ্যান ক্লাবের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রিমিয়ার শো নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে নির্মাতা অর্ক বলেন, ‘খুব এক্সাইটেড এবং নার্ভাস ছিলাম। এতদিনের পুরো টিমের পরিশ্রমের ফল দর্শকদের সামনে আনার মুহূর্ত ছিল এটি। তবে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া দেখে এখন নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি ইতিবাচক রেসপন্স পেয়েছি। আমি খুবই সন্তুষ্ট এবং পুরো টিমের জন্য অনেক আনন্দিত।’

‘মিশন ডিডিএলজে’ প্রযোজনার দায়িত্ব ও আস্থা দেওয়ার জন্য ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নির্মাতা ও নির্বাহী প্রযোজক। তাদের মতে, নির্মাতার প্রতি আস্থা ও সৃজনশীল স্বাধীনতা নতুন ধরনের কাজ করার সাহস জোগায়।

প্রমাণসহ সূত্র:
ব্যবহারকারীর দেওয়া ‘মিশন ডিডিএলজে’ ওয়েব ফিল্মসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য। এতে নির্মাতা আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক, অভিনেতা সাদ নাওভী ও লাবণ্য চৌধুরী এবং নির্বাহী প্রযোজক আশেক হোসেন তন্ময়ের বক্তব্যসহ ওয়েব ফিল্মটির গল্প, অভিনয়শিল্পী, নির্মাণ ও প্রিমিয়ার সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে।

ট্যাগ : মিশন ডিডিএলজে সাদ নাওভী লাবণ্য চৌধুরী

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


৯০ দশকের প্রেম ফিরিয়ে আনছে ‘মিশন ডিডিএলজে’

প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

আধুনিক সময়ের বদলে যাওয়া সম্পর্কের সমীকরণের মধ্যে পুরোনো দিনের প্রেমের আবেগ, অপেক্ষা ও আন্তরিকতাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ওয়েব ফিল্ম ‘মিশন ডিডিএলজে’। ৯০ দশকের রোমান্টিক সিনেমার নস্টালজিয়া এবং বর্তমান সময়ের সম্পর্কের বাস্তবতাকে একসঙ্গে মিলিয়ে নির্মিত আইস্ক্রিন অরিজিনাল রোম্যান্টিক-কমেডি ওয়েব ফিল্মটি পরিচালনা করেছেন আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক। প্রেম, হাস্যরস, বন্ধুত্ব, পারিবারিক সম্পর্ক ও আবেগের সমন্বয়ে নির্মিত এই ওয়েব ফিল্মটি ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টা থেকে আইস্ক্রিনে স্ক্রিনিং হচ্ছে।

মুক্তির পর থেকেই ‘মিশন ডিডিএলজে’ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে সাড়া পড়েছে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টরা। যারা ওয়েব ফিল্মটি দেখেছেন, তাদের অনেকে গল্পের নস্টালজিক আবহ, ৯০ দশকের প্রেমের অনুভূতি, হাস্যরস এবং পারিবারিক আবেগের প্রশংসা করছেন। বর্তমান সময়ের গল্পের সঙ্গে পুরোনো দিনের ভালোবাসার আন্তরিকতাকে মিলিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও দর্শকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সাদ নাওভী ও লাবণ্য চৌধুরীর অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রিও প্রশংসা পাচ্ছে। মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শকদের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ায় নির্মাতা ও কলাকুশলীদের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ওয়েব ফিল্মটির কেন্দ্রীয় দুই চরিত্র ধ্রুব ও দিয়ায় অভিনয় করেছেন সাদ নাওভী ও লাবণ্য চৌধুরী। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরমান বিন মাহমুদ, সাদিয়া ইসলাম জুই, শওকত শোভন, মাসুদ মহিউদ্দিন, শেখ স্বপ্না, শারমিন সুলতানা শর্মী, নিয়ন আহসান ও নির্মাতা আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক। গল্প লিখেছেন আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক ও এম কে এ তুষার। চিত্রনাট্য করেছেন আজহারুল ইসলাম অভি ও আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক।

‘মিশন ডিডিএলজে’র গল্প এগিয়েছে ধ্রুব ও দিয়ার প্রেমকে ঘিরে। বর্তমান সময়ের এই জুটি ৯০ দশকের প্রেমের গল্পের আবেগ, মূল্যবোধ ও আন্তরিকতায় অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের সম্পর্ককেও সেই আদলে গড়ে তুলতে চায়। কিন্তু পুরোনো দিনের প্রেমের ধারণাকে বর্তমান বাস্তবতায় ধরে রাখা সহজ নয়। ফলে তাদের পথচলায় আসে নানা বাধা, সম্পর্কের টানাপোড়েন, বন্ধুত্ব, পারিবারিক জটিলতা ও হাস্যরসাত্মক নানা ঘটনা। গল্পের বিভিন্ন বাঁকে থাকা টুইস্টের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় ওয়েব ফিল্মটির কাহিনি।

ধ্রুব চরিত্রে অভিনয় করা সাদ নাওভীর কাছে ‘মিশন ডিডিএলজে’ শুধু রোম্যান্টিক গল্প নয়, বরং কমেডি, প্রেম ও পারিবারিক আবহের সমন্বয়ে তৈরি একটি ভিন্নধর্মী কাজ। তিনি বলেন, ‘কমেডি, রোম্যান্স ও ফ্যামিলি ড্রামার একটি দারুণ কম্বিনেশন ‘মিশন ডিডিএলজে’। এটি একটি ফিল-গুড গল্প। ক্লাসিক ধাঁচের একটি চরিত্রকে নিজের মতো করে আয়ত্ত করতে পারাটা দারুণ এক অনুভূতি। চরিত্রটির সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা বিশেষ ভালো লেগেছে।’

দিয়া চরিত্রে অভিনয় করা লাবণ্য চৌধুরী বলেন, ৯০ দশকের প্রেমের গল্প তার ব্যক্তিগতভাবেই পছন্দের। তাই চরিত্রটি ধারণ করতে আলাদা করে খুব বেশি প্রস্তুতি নিতে হয়নি। তবে কিছুটা রিহার্সাল করতে হয়েছে। সাদ নাওভীর সঙ্গে প্রথমবার জুটি বেঁধে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও সন্তুষ্ট এই অভিনেত্রী। তার বিশ্বাস, বর্তমান প্রজন্মের দর্শকরাও গল্পটির মধ্যে নিজেদের সম্পর্কের আবেগ খুঁজে পাবেন।

নির্মাতা আসিফ জাহাঙ্গীর অর্কের নিজের শৈশব-কৈশোরের নস্টালজিয়াও জড়িয়ে আছে গল্পটির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি যেহেতু ৮০ দশকে জন্ম এবং ৯০ দশকের রোমান্টিক গল্পগুলো দেখে বড় হয়েছি, আমার চেষ্টা ছিল সেই সময়ের ক্লাসিক লাভ স্টোরির মূল্যবোধ ও অনুভূতিকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরা। গল্প ও চরিত্রগুলো আধুনিক, কিন্তু তারা ৯০ দশকের প্রেমের গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের ভালোবাসার গল্প গড়ে তুলতে চায়। তাই এটি একদিকে আধুনিক, অন্যদিকে নস্টালজিক।’

‘ডিডিএলজে’ নামটির মধ্যেও রয়েছে গল্পের বিশেষ ইঙ্গিত। নির্মাতা জানিয়েছেন, DDLJ-এর পূর্ণরূপ ‘Dhrubo-Diya’s Love Journey’। তবে নামের ভেতরে থাকা লুকানো অর্থ সম্পর্কে আগেভাগে কিছু বলতে চাননি তিনি। তার ভাষ্য, এতে ক্লাসিক রোম্যান্টিক সিনেমার আবহের পাশাপাশি এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা বিভিন্ন প্রজন্মের দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করবে।

নির্মাতা আরও জানান, তিনি মূলত গল্পের জন্য নতুন একটি জুটি খুঁজছিলেন। সাদ নাওভী ও লাবণ্য চৌধুরীকে পাওয়ার পর সেই জায়গাটি পূরণ হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, ওয়েব ফিল্মটির অন্যতম আকর্ষণ নাওভী-লাবণ্যের অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি।

প্রচলিত প্রেমের গল্পের বাইরে গিয়ে পুরোনো দিনের আবেগকে আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা হয়েছে ‘মিশন ডিডিএলজে’। ওয়েব ফিল্মটিতে রয়েছে দুটি গান। এর একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের আবহে এবং অন্যটি রোমান্টিক ঘরানার।

শুটিংয়ের সময়ও নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে টিমকে। ঢাকা ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন লোকেশনে প্রচণ্ড গরম ও হিট ওয়েভের মধ্যে শুটিং করতে হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও পুরো টিমের আন্তরিকতা ও পরিশ্রমে কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাদ নাওভী ও লাবণ্য চৌধুরী।

নির্বাহী প্রযোজক আশেক হোসেন তন্ময় বলেন, ‘এই প্রজেক্টে কাজ করতে গিয়ে আমরা সবাই যেন একটি পরিবারের মতো হয়ে গিয়েছিলাম। টিমের প্রত্যেকের কাজে ছিল আন্তরিকতা, সহযোগিতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া। সেই বন্ধনই পুরো টিমকে একসঙ্গে কাজ করার শক্তি জুগিয়েছে।’

এদিকে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মিশন ডিডিএলজে’র প্রিমিয়ার। এতে ওয়েব ফিল্মটির কলাকুশলীদের পাশাপাশি শোবিজ অঙ্গনের অনেক তারকা উপস্থিত ছিলেন। প্রিমিয়ারে উপস্থিত ছিলেন আশনা হাবিব ভাবনা, মন্দিরা চক্রবর্তী, আজিজুল হাকিম, নাজমি জান্নাত, ইমতিয়াজ বর্ষণসহ অনেকে। অনুষ্ঠানে এসআরকে ইউনিভার্স বাংলাদেশ ফ্যান ক্লাবের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রিমিয়ার শো নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে নির্মাতা অর্ক বলেন, ‘খুব এক্সাইটেড এবং নার্ভাস ছিলাম। এতদিনের পুরো টিমের পরিশ্রমের ফল দর্শকদের সামনে আনার মুহূর্ত ছিল এটি। তবে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া দেখে এখন নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি ইতিবাচক রেসপন্স পেয়েছি। আমি খুবই সন্তুষ্ট এবং পুরো টিমের জন্য অনেক আনন্দিত।’

‘মিশন ডিডিএলজে’ প্রযোজনার দায়িত্ব ও আস্থা দেওয়ার জন্য ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নির্মাতা ও নির্বাহী প্রযোজক। তাদের মতে, নির্মাতার প্রতি আস্থা ও সৃজনশীল স্বাধীনতা নতুন ধরনের কাজ করার সাহস জোগায়।

প্রমাণসহ সূত্র:
ব্যবহারকারীর দেওয়া ‘মিশন ডিডিএলজে’ ওয়েব ফিল্মসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য। এতে নির্মাতা আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক, অভিনেতা সাদ নাওভী ও লাবণ্য চৌধুরী এবং নির্বাহী প্রযোজক আশেক হোসেন তন্ময়ের বক্তব্যসহ ওয়েব ফিল্মটির গল্প, অভিনয়শিল্পী, নির্মাণ ও প্রিমিয়ার সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ