ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

এনসিপি তৃণমূল শক্তি বাড়াতে জেলা-উপজেলা কমিটি গঠন করছে

এনসিপি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব উপজেলার কমিটি গঠন সম্পন্ন করতে চায়, স্থানীয় নির্বাচনে প্রস্তুতি চলছে

এনসিপি তৃণমূল শক্তি বাড়াতে জেলা-উপজেলা কমিটি গঠন করছে
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার পাশাপাশি মাঠের রাজনীতিতে সাংগঠনিক সক্ষমতা প্রমাণের লক্ষ্যে তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করার তৎপরতা শুরু করেছে। দলটি দুই বিভাগে সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা পরিচালনা করেছে এবং ধাপে ধাপে সাংগঠনিক কাঠামো বিস্তারের পরিকল্পনা নিয়েছে।

এনসিপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের সব উপজেলার, অক্টোবরের মধ্যে সব পৌরসভার এবং নভেম্বরের মধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি গঠনের কাজ শেষ করা হবে। আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠনের লক্ষ্যও রয়েছে। ২৮ আগস্ট থেকে উপজেলায় কমিটি গঠনের জন্য সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।

দলের ৮০টি জেলা ও মহানগর সাংগঠনিক ইউনিটের মধ্যে ৭৬টিতে আহ্বায়ক কমিটি আছে এবং উপজেলার ৫০০ ইউনিটের মধ্যে ৩৬৬টিতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষের মধ্যে বাকি উপজেলাগুলোতেও আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম জানিয়েছেন, অক্টোবরের মধ্যে ৩৩০টি পৌরসভায় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা আছে। এছাড়া নভেম্বরের মধ্যে প্রায় ৪,৬০০ ইউনিয়নে সাংগঠনিক কমিটি গঠন এবং একই সময়ে ইউপির চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ঘোষণা করার কাজ এগোচ্ছে।

উপজেলা নেতৃত্ব বাছাই করতে এনসিপি কিছু মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। উপজেলা আহ্বায়কের বয়স ৪০ বছরের বেশি এবং সদস্যসচিবের বয়স ৩৫ বছরের বেশি হওয়া বঙ্গীয়। আবেদনকারীদের মধ্যে স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা, পরিচিতি, নেতৃত্বের দক্ষতা ও দলের প্রতি আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কমিটিতে কমপক্ষে ৫ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব এবং স্থানীয় ধর্মীয় ও জাতিগত গোষ্ঠীর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

২১ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের ২২টি সাংগঠনিক ইউনিটে সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা পরিচালনা করেছে এনসিপি। এসব সভা তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মনোজাগ্রত করেছে বলে দলের শীর্ষ নেতারা উল্লেখ করেন।

দলের নেতা সারজিস আলম জানান, যেসব জেলা ও উপজেলায় কমিটি ছিল না বা কার্যক্রম স্থবির ছিল, সেসব জায়গায় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শেষ দিকে পৌঁছেছে। এনসিপির নেতারা জানান, এই তৎপরতা কেবল স্থানীয় নির্বাচন নয়, গণ-আন্দোলনের প্রথম ধাপ হিসেবে চলছে।

দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান, রিমান্ডে নির্যাতনসহ সংগঠনের কিছু নেতার গ্রেপ্তার ইস্যুতে এনসিপি কঠোর অবস্থান ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সম্প্রতি নাহিদ ইসলাম গণ-আন্দোলনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সারজিস আলম বলেন বিএনপি সরকারের নানামুখী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সদলীয় অবস্থান গড়ে তোলা প্রয়োজন। এনসিপির তৎপরতা সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে।

দলটি প্রায় দেড় বছর আগে আত্মপ্রকাশ করলেও জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সাংগঠনিক কাজের পাশাপাশি স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিকেও সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দলটি।

গোপালগঞ্জে গত ১৮ আগস্ট ছয় মাস মেয়াদি আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। গত বছর গোপালগঞ্জে এনসিপি কর্মসূচি কেন্দ্রিক সহিংসতায় চারজন নিহত হওয়ার পর সংগঠনের কাঠামো গড়াকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

দলের এক নেতা সারোয়ার তুষার জানান, পলাতক ও পতিত লীগের হুমকি থাকা সত্ত্বেও গোপালগঞ্জে আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই উপজেলার ও ইউনিয়নের কমিটি গঠন করা হবে। গোপালগঞ্জকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটিযে ভেবে ভুল হবে, এনসিপি সাধারণ জনগণের পাশে থাকবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এনসিপি তৃণমূল শক্তি বাড়াতে জেলা-উপজেলা কমিটি গঠন করছে

প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার পাশাপাশি মাঠের রাজনীতিতে সাংগঠনিক সক্ষমতা প্রমাণের লক্ষ্যে তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করার তৎপরতা শুরু করেছে। দলটি দুই বিভাগে সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা পরিচালনা করেছে এবং ধাপে ধাপে সাংগঠনিক কাঠামো বিস্তারের পরিকল্পনা নিয়েছে।

এনসিপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের সব উপজেলার, অক্টোবরের মধ্যে সব পৌরসভার এবং নভেম্বরের মধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি গঠনের কাজ শেষ করা হবে। আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠনের লক্ষ্যও রয়েছে। ২৮ আগস্ট থেকে উপজেলায় কমিটি গঠনের জন্য সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।

দলের ৮০টি জেলা ও মহানগর সাংগঠনিক ইউনিটের মধ্যে ৭৬টিতে আহ্বায়ক কমিটি আছে এবং উপজেলার ৫০০ ইউনিটের মধ্যে ৩৬৬টিতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষের মধ্যে বাকি উপজেলাগুলোতেও আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম জানিয়েছেন, অক্টোবরের মধ্যে ৩৩০টি পৌরসভায় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা আছে। এছাড়া নভেম্বরের মধ্যে প্রায় ৪,৬০০ ইউনিয়নে সাংগঠনিক কমিটি গঠন এবং একই সময়ে ইউপির চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ঘোষণা করার কাজ এগোচ্ছে।

উপজেলা নেতৃত্ব বাছাই করতে এনসিপি কিছু মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। উপজেলা আহ্বায়কের বয়স ৪০ বছরের বেশি এবং সদস্যসচিবের বয়স ৩৫ বছরের বেশি হওয়া বঙ্গীয়। আবেদনকারীদের মধ্যে স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা, পরিচিতি, নেতৃত্বের দক্ষতা ও দলের প্রতি আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কমিটিতে কমপক্ষে ৫ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব এবং স্থানীয় ধর্মীয় ও জাতিগত গোষ্ঠীর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

২১ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের ২২টি সাংগঠনিক ইউনিটে সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা পরিচালনা করেছে এনসিপি। এসব সভা তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মনোজাগ্রত করেছে বলে দলের শীর্ষ নেতারা উল্লেখ করেন।

দলের নেতা সারজিস আলম জানান, যেসব জেলা ও উপজেলায় কমিটি ছিল না বা কার্যক্রম স্থবির ছিল, সেসব জায়গায় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শেষ দিকে পৌঁছেছে। এনসিপির নেতারা জানান, এই তৎপরতা কেবল স্থানীয় নির্বাচন নয়, গণ-আন্দোলনের প্রথম ধাপ হিসেবে চলছে।

দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান, রিমান্ডে নির্যাতনসহ সংগঠনের কিছু নেতার গ্রেপ্তার ইস্যুতে এনসিপি কঠোর অবস্থান ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সম্প্রতি নাহিদ ইসলাম গণ-আন্দোলনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সারজিস আলম বলেন বিএনপি সরকারের নানামুখী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সদলীয় অবস্থান গড়ে তোলা প্রয়োজন। এনসিপির তৎপরতা সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে।

দলটি প্রায় দেড় বছর আগে আত্মপ্রকাশ করলেও জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সাংগঠনিক কাজের পাশাপাশি স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিকেও সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দলটি।

গোপালগঞ্জে গত ১৮ আগস্ট ছয় মাস মেয়াদি আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। গত বছর গোপালগঞ্জে এনসিপি কর্মসূচি কেন্দ্রিক সহিংসতায় চারজন নিহত হওয়ার পর সংগঠনের কাঠামো গড়াকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

দলের এক নেতা সারোয়ার তুষার জানান, পলাতক ও পতিত লীগের হুমকি থাকা সত্ত্বেও গোপালগঞ্জে আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই উপজেলার ও ইউনিয়নের কমিটি গঠন করা হবে। গোপালগঞ্জকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটিযে ভেবে ভুল হবে, এনসিপি সাধারণ জনগণের পাশে থাকবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ