ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় গ্রামবাসী। মানববন্ধন শেষে উত্তেজিত জনতা মামলার আসামিদের বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে।
মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গফরগাঁও-নান্দাইল সড়কের কালীবাড়িচরে সর্বস্তরের জনতার উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে চরআলগী ইউনিয়নের শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সায়েম, চরআলগী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সম্পাদক জিল্লুর রহমান মাস্টার, শরিফুল ইসলাম ফরাজি সুমন এবং উপজেলা যুব খেলাফত মজলিসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফসহ স্থানীয় নেতারা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, এলাকার কতিপয় ব্যক্তির মদদে মামলার কয়েকজন আসামি এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তাদের দাবি, আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে মামলাটির বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধন শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উত্তেজিত জনতা চরকালীবাড়ি গ্রামে গিয়ে মামলার আসামি শরিফ, আরিফ, রাজিবসহ পাঁচজনের বসতবাড়িতে ভাঙচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে প্রথম দফায় উত্তেজিত গ্রামবাসী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি চরমছলন্দ কালীবাড়িচর গ্রামের তাহের আকন্দের ছেলে শরিফ ও আরিফ মিয়ার বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে স্থানীয় গ্রামবাসী রোববার ও সোমবার দুই দফা আলোচনা করেন।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার চরমছলন্দ কালীবাড়িচর গ্রামের তাহের আকন্দের ছেলে শরিফ ও আরিফ এবং তাদের প্রতিবেশী রাজিব, ফাহিম ও এনামুল ওই গৃহবধূর বাড়িতে যায়। খাবার পানি দেওয়ার কথা বলে তারা গৃহবধূর স্কুলপড়ুয়া ছেলে রাতুলকে ঘর থেকে ডেকে বের করে। অভিযোগ রয়েছে, রাতুল ঘর থেকে বের হওয়ার পর অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে বেঁধে ফেলা হয়। পরে তাকে বসতঘরে আটকে রেখে শরিফ ও আরিফ ওই গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় রাজীব নামে আরেক যুবক ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে রাখে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার একদিন পর শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত এজাহারনামীয় আসামি রাজীবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে আসামিদের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।