ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত অবসানে কোনো চুক্তি না হলে যুদ্ধ আরও তীব্র করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে সমর্থন করে বলেন, এর মাধ্যমে তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে চুক্তি না হলে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসানে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। তিনি দাবি করেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই তার প্রশাসন সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তার প্রশাসন ইরানের সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে পারবে বলে তিনি আশা করছেন। তবে তার আগে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর জন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে দেশটির ওপর চাপ বাড়ানো গেলে তেহরান আলোচনায় বসতে বাধ্য হতে পারে। এ জন্য অন্যান্য রাষ্ট্রকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বিতভাবে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ট্রাম্পের একাধিক বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি ইউক্রেনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকট নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্পের জাতিসংঘের ভাষণটি এমন এক সময়ে হলো, যখন ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ এবং সংঘাতের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ভাষণে ট্রাম্প একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে তার সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন, অন্যদিকে ভবিষ্যতে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনার কথাও বলেন।
সূত্র: রয়টার্স