ঢাকা    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

টাঙ্গাইলে সেতুতে বাঁশ দিয়ে ঢালাই, গ্রেপ্তার ১

টাঙ্গাইলে সেতুতে বাঁশ দিয়ে ঢালাই, গ্রেপ্তার ১
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাইয়ের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রকল্পের সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি করেন।

পুলিশ জানায়, মামলার আসামিরা হলেন ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলম ও সাব-ঠিকাদার শাহ আলম। মঙ্গলবার দুপুরে বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া সেতুর কাছ থেকে শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটি তদন্তে মঙ্গলবার বিকেলে নির্মাণাধীন সেতু পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল মনজুর মুহাম্মদ ছাদেক।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেনের নির্দেশে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মো. আহাদি হোসেনকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেন। কমিটিকে এক দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এলজিইডির পক্ষ থেকেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ত্রুটিপূর্ণ কাজ সংশোধন এবং দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস হয়ে মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ পিএসসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণ করছে মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি)। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেতুর ফুটপাত বা ওয়াকওয়ের স্ল্যাব ঢালাইয়ের সময় রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছিল। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে আপত্তি জানালে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়। তারা ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে রাতে আবার কাজ শুরু করে ঢালাই শেষ করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর এলজিইডিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করে।

উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও সাব-ঠিকাদার কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে রাতে ফুটপাতের ঢালাইয়ের কাজ করেন। কাজটিকে ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেতুর নির্মাণকাজ পরীক্ষা করছেন। ল্যাব টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে সেই অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় আনা অভিযোগ তদন্তাধীন। গ্রেপ্তার সাব-ঠিকাদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ট্যাগ : টাঙ্গাইল এলজিইডি

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


টাঙ্গাইলে সেতুতে বাঁশ দিয়ে ঢালাই, গ্রেপ্তার ১

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাইয়ের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রকল্পের সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি করেন।

পুলিশ জানায়, মামলার আসামিরা হলেন ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলম ও সাব-ঠিকাদার শাহ আলম। মঙ্গলবার দুপুরে বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া সেতুর কাছ থেকে শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটি তদন্তে মঙ্গলবার বিকেলে নির্মাণাধীন সেতু পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল মনজুর মুহাম্মদ ছাদেক।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেনের নির্দেশে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মো. আহাদি হোসেনকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেন। কমিটিকে এক দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এলজিইডির পক্ষ থেকেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ত্রুটিপূর্ণ কাজ সংশোধন এবং দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস হয়ে মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ পিএসসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণ করছে মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি)। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেতুর ফুটপাত বা ওয়াকওয়ের স্ল্যাব ঢালাইয়ের সময় রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছিল। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে আপত্তি জানালে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়। তারা ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে রাতে আবার কাজ শুরু করে ঢালাই শেষ করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর এলজিইডিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করে।

উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও সাব-ঠিকাদার কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে রাতে ফুটপাতের ঢালাইয়ের কাজ করেন। কাজটিকে ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেতুর নির্মাণকাজ পরীক্ষা করছেন। ল্যাব টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে সেই অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় আনা অভিযোগ তদন্তাধীন। গ্রেপ্তার সাব-ঠিকাদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ