রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) যেকোনো প্ল্যান বা নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়া ২৪ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জকে পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তুলতে পৃথক বিশেষ মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কথাও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুরে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনডিএ) কার্যালয় উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
রাজউকের সেবা ও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্থাটির সেবাব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেবার প্রক্রিয়া আরও ডিজিটাল করার পাশাপাশি আবেদন নিষ্পত্তির সময় কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
মন্ত্রী জানান, কোনো গ্রাহক প্ল্যান অনুমোদনের জন্য আবেদন করলে সেটি ২৪ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা তৈরির লক্ষ্যে কাজ চলছে। তবে এটি এখনো উদ্যোগের পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, রাজউকের আওতাধীন এলাকা বড় হলেও সেই তুলনায় জনবল পর্যাপ্ত ছিল না। স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিকদের সহজ ও দ্রুত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের জন্য পৃথক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।
রাজউকের সেবায় ইতোমধ্যে কিছু পরিবর্তন আনার কথা জানিয়ে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, আগে রাজউকের প্লট বা ফ্ল্যাট বিক্রি ও হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন হতো। বর্তমানে মালিকানা মিউটেশন সম্পন্ন হওয়ার পর হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় মানুষের সেবা সহজ করার পাশাপাশি পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করাই এনডিএ গঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য। নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬ অনুযায়ী পরিকল্পিত আধুনিক নগর গঠন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ নিয়ন্ত্রণ ও উন্নত নাগরিক জীবন নিশ্চিত করার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষটির ওপর রয়েছে।
রাজউকের বিদ্যমান মাস্টারপ্ল্যানের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের জন্য আলাদা বিশেষ মাস্টারপ্ল্যান তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। সেই পরিকল্পনার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ নগরায়ণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
এনডিএর বর্তমান সীমানা আরও সম্প্রসারণ করা যায় কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফতুল্লা ও সোনারগাঁসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকাকে এর আওতায় আনার সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।