মধ্যপ্রাচ্যে নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে ইরানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি। চলমান যুদ্ধকে পুরো অঞ্চলের জন্য সতর্কসংকেত হিসেবে বিবেচনা করে দায়িত্বশীলভাবে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত কাতার ইকোনমিক ফোরামের বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন।
ইরানকে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ভালো সম্পর্ক নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, চলমান সংঘাত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের নিরাপত্তার বিষয়ে সবাইকে একসঙ্গে ভাবতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও উত্তেজনা চলতে থাকার মধ্যে কাতারের এই আহ্বান সামনে এসেছে। সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তার পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে।
ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরেছেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারিও। সোমবার নিউইয়র্কে তিনি বলেন, ইরান ও উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের মধ্যে অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
তবে এমন ব্যবস্থার সঙ্গে নিরাপত্তার নিশ্চয়তাও থাকতে হবে বলে জানান আল-আনসারি। ভবিষ্যতে ইরানকে ঘিরে কোনো সংঘাত হলে উপসাগরীয় দেশগুলো যেন হামলার শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। দ্য ন্যাশনালের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশও ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুনভাবে চিন্তা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার পাশাপাশি ইরান ও আরব দেশগুলোর মধ্যেও সংলাপের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।
কাতারের সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অর্থনৈতিক ফোরামের উদ্বোধনী বক্তব্যে শেখ মোহাম্মদ সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, উন্নত অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। মধ্যস্থতা, জ্বালানি সরবরাহ এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কাতার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অংশীদার হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।