ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি আরবের অনুরোধে পেন্টাগন প্রস্তুতি শুরু করেছিল এবং যুদ্ধবিমানে বোমা তোলার কাজও চলছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে। তবে হামলা বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ বা এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাইছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তাঁর সঙ্গে কথোপকথনের পর ট্রাম্প প্রথমে বিমান হামলার প্রস্তুতির নির্দেশ দেন। পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।
এমন সময়ে এ খবর সামনে এসেছে, যখন সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে লড়াই তীব্র হচ্ছে। লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অবস্থান শক্ত করার পাশাপাশি বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশের পাহাড়ি অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে হুতিরা।
বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি ঘিরে সংঘাত সৌদি আরবের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানির পথের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
জাতিসংঘের হিসাব উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে ইয়েমেনে অন্তত ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৮৬ হাজার মানুষ তাইজ শহরে আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিকে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি রোববার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা চেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ওই কথোপকথনে সরাসরি সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেননি।
হুতিরা দাবি করেছে, সৌদি আরব সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে শত শত বিমান হামলা চালালেও অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি। এই দাবির স্বাধীন সত্যতা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
এর আগে ২০২৫ সালে হুতিদের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহ বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পরে উভয় পক্ষের সমঝোতার পর হামলা বন্ধ হয়। নতুন করে মার্কিন হামলার প্রস্তুতি ও তা বাতিলের খবর ইয়েমেন সংঘাতে ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সামনে এনেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান