ইরান যুদ্ধের শুরুর দিকে বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে বিলম্ব হয়েছিল। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে কয়েকটি পরিবারকে প্রায় এক সপ্তাহ কিংবা তারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর মধ্যপ্রাচ্য সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। তখনো আশপাশের এলাকায় মার্কিন সামরিক সদস্যদের অনেক পরিবার বসবাস করছিল।
সিবিএস নিউজের বরাতে সরবরাহ করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় নৌবাহিনীর সদর দপ্তরের ভবনগুলো আগেই খালি করা হয়েছিল। তবে যুদ্ধ শুরুর আগে পরিবারগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
ওই সময় বাহরাইনে থাকা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ধারাবাহিক হামলা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনকে আতঙ্কের মধ্যে ফেলে দেয়। এক পরিবারের সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রের শব্দে ঘুম ভাঙত, আবার একই শব্দের মধ্যে রাত কাটাতে হতো।
প্রতিবেদনে এক মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ইরানের পাল্টা হামলা প্রত্যাশিত হলেও তার মাত্রা এতটা হবে বলে তাঁরা ধারণা করেননি। হামলা চলতে থাকায় পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও জটিল হয়ে পড়ে।
বাহরাইনের ঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব পড়ে সমুদ্রে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজের রসদ সরবরাহেও। বিকল্প পথ ব্যবহার করে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হয় নৌবাহিনীকে। সরবরাহ করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু রসদ ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া হয়ে পাঠানো হয়, যার ফলে পরিবহনের সময় বেড়ে যায়।
এদিকে যুদ্ধের ব্যয়ের হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলোর পুনর্নির্মাণ ব্যয় পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা, কোন স্থাপনা পুনর্নির্মাণ করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত নয়। এই তথ্য থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষয়ক্ষতি গোপনের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
পরিবারগুলোর সংকট শুধু বাহরাইন ছাড়ার মধ্যেই শেষ হয়নি। নেভি টাইমসের পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরিয়ে নেওয়ার ছয় মাস পরও কিছু পরিবার সেখানে রেখে আসা মালামাল, গাড়ি ও পোষা প্রাণী ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁদের ফিরে গিয়ে সেগুলো আনার অনুমতিও দেওয়া হয়নি।